সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি, ১০ দফা দাবিবিশ্বম্ভরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের দোয়া ও ইফতার মাহফিলজামালগঞ্জে আনসার ও ভিডিপির ঈদ উপহার বিতরণদিরাইয়ে পুলিশের নায়েক জুয়েল দাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনদ্রব্যমূল্য নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রীশান্তিগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিতপথচারী ও অসুস্থদের মাঝে টিম ছাতকের সেহরি বিতরণশান্তিগঞ্জে প্রবাসবন্ধু ফোরামের ঈদ উপহার বিতরণ জামালগঞ্জে কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল‎শান্তিগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

কুষ্টিয়ায় রাইস মিলগুলোর নেই কোন নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার: ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক-হাওড় র্তা

কে এম শাহীন রেজা
  • সংবাদ প্রকাশ : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ৭৮০ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।

কুষ্টিয়ায় অটো রাইস মিলের বর্জ্যে ভয়াবহ দূষণের শিকার খাজানগর-কবুরহাটের সেচ খালগুলো। কবুরহাট কদমতলায় বর্জ্যে ভরাটও হয়ে গেছে খাল। দুর্গন্ধযুক্ত কালচে পানি ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে। দূষনের ফলে এলাকার পুকুর জলাশয়ে মরছে মাছ। ভারী এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটিরও নেই বর্জ্য শোধনাগার। এ বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও স্থানীয় মিলমালিকরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।

কুষ্টিয়ার খাজানগর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান-চালের মোকাম। এখানে বড় আকারের অটোমেটিক রাইস মিলই আছে ৫৫টি। এগুলোর কোনটিরই নেই বর্জ্য পরিশোধনাগার। মিলের দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি পাইপের মাধ্যমে সরাসরি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের খালে। যা চলে যাচ্ছে কৃষি জমিতে, যাচ্ছে মাছ চাষের পুকুরে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, মরে ভেসে উঠছে মাছ। দূষিত পানির সঙ্গে ধানের চিচা, কুড়া ও ছাই থাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খালগুলো। আবার কোন কোন রাইস মিল দখলে নিয়েছে খালের জায়গা। সরু করে নিজেরাই নির্মাণ করে নিয়েছে কালভার্ট। দূরের রাইস মিলও পাইপ লাইনে বর্জ্যের সংযোগ রেখেছে খালের সঙ্গে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. বিপ্লব বলেন, এলাকার কোন পুকুরেই মাছ বাঁচে না। ক’দিন পরপরই মাছ মরে ভেসে ওঠে। তিনি বলেন, কৃষি কাজে শ্রমিক পাওয়া যায় না। জমিতে দূষিত পানি থাকায় ভয়ে হাত দিতে চায় না তারা চর্ম রোগের ভয়ে। তিনি আরো বলেন, এসব নিয়ে মিল মালিকদের সঙ্গে স্থানীয়দের প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। তারা দূষিত পানি না ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মানেন না।

বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোমিন মন্ডল নিজেও রাইস মিলের মালিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মিল মালিকরা কারোর কথা কর্ণপাত করেন না। তিনি বলেন, এসব খাল প্রতিবছরই খনন করা হয়। কিন্তু রাইস মিলের বর্জ্যের কারণে ক’দিনেই ভরে যায়। তিনি আরো বলেন, এমপি সাহেবও তাদের এসব দূষণ বন্ধ করতে বলেছেন কিন্তু তারা শোনেন নি। এদিকে এসব বিষাক্ত বর্জ্যে ক্ষতিকর ভারী ধাতব পদার্থ থাকার কথা বলছেন কৃষি কর্মকর্তা। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, এর মধ্যে আইরন, লেডসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার দূষিত পানিতে উৎপাদন কম হয় বলেও জানান তিনি।

বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণে আগ্রহের কথা জানান মিল মালিকদের নেতা। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কুষ্টিয়ার সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক বলেন, মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ আমরা করতে চাই না। তিনি বলেন, সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে প্লান্ট নির্মাণ সহজ হবে। এদেরকে সহযোগিতা করার কথা বলছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান আতা। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু করার দরকার হলে করবেন তিনি। তবে, এ জন্য মিল মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

এসব প্রতিশ্রুতিতে কোন আশার আলো দেখছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তরল বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি খালে ছেড়ে দিচ্ছে মিল মালিকরা। প্রতিনিয়ত একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। কিন্তু আজ অবধি এই পরিশোধণাগার নির্মাণ না করায় এই এলাকার কৃষক এবং মানুষের চরম ক্ষতি হচ্ছে। তারা অতি দ্রুত এর সমাধান চান।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656