বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দুর্বৃত্তের এসিড নিক্ষেপে ঝলসে গেছে যুবক।প্রচন্ড কুয়াশা ও শীতের সকালে কাজে ব্যাস্ত যশোর মনিরামপুরের চাষীরাকোম্পানীগঞ্জে কারিগরি কলেজের সম্মুখে দুটো মোটর বাইকের সংঘর্ষ।বিশ্বনাথে পুকুরে ডুবে প্রতিবন্ধী এক যুবতীর মৃত্যুনাসিরনগরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধনবিশ্বনাথে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সবজি-ফসলের ক্ষতির আশঙ্কারুপিয়া বেগমের আকুতি ছাতকে রাব্বি হত্যা মামলা আসামীদের ফাঁসির দাবীতে সংবাদ সম্মেলনসিলেটে শিক্ষার্থীরা গণপরিবহনে চলাচলে হাফ ভাড়া দিতে পারবেনম‌হেশখালী‌তে মৃত ম‌হিষের মাংস বিক্রয়কা‌লে পিতা পুত্র আটকবিশ্বনাথে এসআই বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

বিশ্বনাথে রবিউল হত্যা : ১৩ মাসেও প্রস্তুত হয়নি অভিযোগপত্র

হাওড় বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে খুন করে লাশ বস্তায় ভরে গুম করে রেখে রাতের আধাঁরে সেই লাশ ডোবার পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে নিজেরা আত্মগোপনে চলে যাওয়া এ যেন বাংলা সিনেমার কাহিনীর মতোই দৃশ্যমান ঘটনা।

১১ বছরের শিশু এক মাদ্রাসা ছাত্র রবিউল ইলামের সাথে। নিষ্ঠুর ঘাতকরা খুঁচিয়ে খোবলে-থেতলে ও ঘাড় মটকে সর্বশেষ ঘৃন্য হিংস্রতায় শ্বাসরোধ করে নিশংসভাবে কেড়ে নিয়েছিলো রবিউলের প্রাণ।

চরম নিষ্ঠুর হৃদয় বিদারক আলোচিত এ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছিলো প্রায় ১৩ মাস পূর্বে।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রহমান নগর ও করপাড়া গ্রাম সংলগ্ন গাঙ্গের পাড়ের আশপাশ এলাকায় ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের ১২/১৩ তারিখের ভোর ৬ টার পূর্বে যেকোন সময়ে।

গত (২৪ অক্টোবর) ২০২১ রোববার সিলেটের আদালতপাড়ায় নিহত মাদ্রাসা ছাত্র শিশু রবিউল ইসলামের পিতা ও রবিউল হত্যা মামলার বাদি বিশ্বনাথ উপজেলার ৪নং রামপাশা ইউনিয়নের রহমান নগর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর বর্গাচাষী মো: আকবর আলী (৪৫) অস্রশিক্ত নয়নে এ প্রতিবেদককে জানান যে, একটি গ্রাম্য সালিশে স্বাক্ষী দেওয়ার কারণে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করে দেওয়া হয়েছিল।

ছেলে হারানোর শোকে কাতর আকবর আলী বলেন, করপাড়া গ্রামের সাদিকুল ও তার ফুফাতো ভাই নিয়ামত উল্লাহর নির্দেশেই কাদির, গোলাম হোসেন, হাসান, ফয়জুল ও মাজেদা গংরা মিলে রবিউলকে হত্যা করেছে।

পুলিশ প্রধান আসামীদের ধরতে পারেনি এবং মামলার চার্জশীট এখনো দিচ্ছেনা। এদিকে ময়না তদন্তের রিপোর্টও চলে এসেছে। কবে যে হবে আমার ছেলে হত্যার বিচার সেটা শুধু আল্লাহ তায়ালাই জানেন।

রবিউলের পিতার বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদক জানান, গত বছর অক্টোবর মাসে ঘাড় মটকে দিয়ে অন্ডকোষ তেতলে পরে শ্বাসরোধ করে খুন করে শিশু রবিউলের লাশ গুম করে দেওয়া হয়েছিলো।

নিহতের পরিবারের দাবি, মূলত পূর্ব শত্রুতার কারনেই খুনিরা পরিকল্পিতভাবে রবিউলকে হত্যা করে। প্রায় দেড় বছর পূর্বে গুয়াহরি গ্রামের কামরান মিয়ার একটি গরু গাঙ্গগে পাড়ের সাদিকুলের জমির বীজ ধান নষ্ট করায় উত্তেজিত হয়ে সাদিকুল ওই গরুর পিছনের একটি পা কেটে দেন।

ঘটনাক্রমে নিহত রবিউল তখন সেখানে তাদের গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছিল এবং সে তা দেখে ফেলে। পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার গুয়াহরি গ্রামের গোলাম হোসেনের বাড়িতে সাদিকুল কর্তৃক গরুর পা কাটা নিয়ে একটি গ্রাম্য বিচার সালিশ বসে এবং নিহত রবিউল সেখানে স্বাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাদিকুল কর্তৃক এমরান মিয়ার গরুর পা কাটার ঘটনা উপস্থিত বিচার সালিশে বর্ণনা করে।

রবিউলের স্বাক্ষীর প্রেক্ষিতে তখন সেই বিচারে সাদিকুলকে ভৎর্সনা করে শাস্তি দেওয়া হয় এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে এমরান মিয়া সেই টাকা নেননি।

মূলত এই স্বাক্ষী দেওয়াটাই কাল হয়েছিলো রবিউলের জীবনে। পরবর্তীতে সাদিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে তার ফুফাতো ভাই গুয়াহরি গ্রামের নিয়ামত উল্লাহকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রবিউল ও তার পরিবারকে হুমকি ধমকি প্রদান করে এবং এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খোঁজতে থাকে।

গত (৬ অক্টোবর) ২০২০ সালে দুপুর অনুমান ১ টায় নিহত রবিউল ইসলাম আব্দুল কাদিরের বাড়ি সংলগ্ন তাদের বর্গা চাষকৃত ফসলি জমি দেখতে যায়।

ঘটনাক্রমে সাদিকুল সেখানে গিয়ে রবিউলকে তার জমির আইল দিয়ে যাওয়ার কারনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এক পর্যায়ে রবিউলের গাল ও কানে চড় তাপ্পড় মেড়ে জমিতে ফেলে দিয়ে লাথি গুতা মেরে লীলা ফোলা জখম করে এবং এই নিয়ে সাদিকুলের উপর আবারও বিচার সালিশ বসে শাস্তি দেওয়া হয়।

এতে সাদিকুল ক্রোধে আক্রোশে ফেটে পড়ে এবং রবিউলের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খোঁজতে থাকে। অবশেষে এসেও গেলো সেই সুযোগ, গত (১২ অক্টোবর) ২০২০ সালে বেলা অনুমান ১২ টায় নিত্য দিনের মতো রবিউল করপাড়া গ্রাম সংলগ্ন গাঙ্গের পাড়ে আব্দুল কাদিরের বাড়ির সামনে তাদের বর্গাচাষকৃত ফসলি জমি দেখতে ও কচুর লতি আনতে যায়।

কিন্তু নিষ্ঠুর ঘাতকের নিকৃষ্ট হিংসুতায় পরদিন ভোরে লাশ হয়ে ভাসে পার্শ্ববর্তী জমি সংলগ্ন বাল্লা ব্রিজের পাশের একটি ডোবায়।

উল্লেখ্য যে, রবিউল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেলে নিহত রবিউলের গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মসজিদে মাইকিং করা হয়।

অবশেষে ঐ দিন রাত অনুমান ৮ টা ৩০ মিনিটের সময় রবিউলের মামা শওকত আলী বিশ্বনাথ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন।

যার জিডি নং- ৫৪৩, তারিখ: ১২/১০/২০২০ইং। আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজির পরে পরদিন ভোর অনুমান ৬টায় লোকমুখে শোনা যায় বাল্লা ব্রিজ সংলগ্ন সাজিুদর রহমানের ডোবায় একটি ভাসমান লাশ দেখা যাচ্ছে।

তৎক্ষনাত রবিউলের পিতা ও অন্যান্য লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে রবিউলের লাশ শনাক্ত করে পুলিশে খবর দিলে বিশ্বনাথ থানার এসআই দেবাশীষ শর্মা সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

স্বাক্ষীদের সহায়তায় নিহতের রবিউলের মৃতদেহ ডোবা জমির পানি হইতে উঠাইয়া যখন সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয় তখনও রবিউলের কান ও চোখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল, তাছাড়া মৃতদেহের চোখ, নাক ও কানের চামড়া ছিলানো ছিলো এবং পুরুষাঙ্গ ও অন্ডকোষ তেতলানো ছিলো।

কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য যে বিষয়টি এসআই দেবাশিষ শর্মা উল্লেখ করেন তা হলো ‘মৃতের ঘাড় মটকানো’ সুতরাং পুলিশ কৃর্তক প্রস্তুতকৃত সুরতহাল রিপোর্টে তাৎক্ষনিকভাবে প্রমানিত হয় যে, রবিউল ইসলামকে অত্যন্ত নিকৃষ্টভাবে বিকৃত মনমানষিকতায় হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিলো।

ঐদিন অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর ২০২০ইং বিকেল ৪.৩০ মিনিটে নিহত রবিউলের পিতা মো: আকবর আলী বাদী হয়ে করপাড়া গ্রামের সাদিকুর রহমান সাদিকুল, আব্দুল কাদির ও আব্দুল কাদিরের স্ত্রী মাজেদা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ তৎসহ পুর্বপরিকল্পিতভাবে পরষ্পর যোগসাজশে হত্যা করা ও লাশ গুম করার অপরাধে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281