শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন

আদালত অবমাননার অভিযোগ অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানের বিরুদ্ধে 

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট:: সরকারি নীতিমালা (জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১) লংগন করেই  অধ্যক্ষ পদ ভাগিয়ে নেওয়া ও মহামান্য হাইকোর্ট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত আদেশ অবমাননা ও  চিঠি গুম করার  অভিযোগ উঠেছে  মইন উদ্দিন আর্দশ মহিলা কলেজ এর  অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান এর বিরুদ্ধে।

অধ্যক্ষ আবিদুরের নানা অনিয়ম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে  প্রভাষক মাহবুবুর রউফ নয়ন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়  আওয়ামীপন্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান ২০২১ সালে যে সাকুর্লারে কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তা বিধিমোতাবেক ছিল না। সরকারি নীতিমালা ও জনবল কাঠামো এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর  লংগন করে ঐ সার্কুলারের মাধ্যমে কলেজ গভর্নিং বডি কর্তৃক অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত হন।

আবিদুর রহমান অধ্যক্ষ হওয়ার পর নয়ন বিগত (২২.৯.১৯ ইং)তারিখের   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য তাঁর  নিকট  লিখিতভাবে আবেদন করেন। কিন্তু তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি বরং কলেজ  সভাপতির (২০.৬.২১ তারিখের)  চিঠি সহ বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ গুম করে ফেলে বিতর্কিত কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন।

নয়ন তারঁ বিতর্কিত নিয়োগের  বিরুদ্ধে মাউশি সিলেট পরিচালক,মাউশি মহাপরিচালক,  শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত  অভিযোগ দায়ের করেন।তার ঐ লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মাউশি কর্তৃপক্ষ  দীর্ঘ ২২ মাস (যোগদানের পর থেকেই) আবিদুর রহমানের এমপিও আটকানো হয় এবং  এই বিতর্কিত নিয়োগের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।কিন্তু আওয়ামী দলীয় চাপের কারণে ঐ তদন্ত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে।

পরর্বতীতে ২০২২ সালে ২৫ ডিসেম্বর  উচ্চ শির্ক্ষাথে নয়ন ইউকে আসার পর পরই  সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড  মোমেন এর সহযোগিতা ও আওয়ামী দলীয় বিবেচনায় বিধিবহির্ভূতভাবে তিনি ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে এমপিও জন্য আবেদন করেন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে বেআইনিভাবে এমপিও বেতন এর টাকা (বকেয়া বেতন ভাতা) সহ  ফিরিয়ে আানেন বলে জানা যায়।

এছাড়া প্রভাষক নয়ন বলেন  মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিগত ১.৪.২৪ সালে (৩য় বারের মতো) কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত চিঠি পাঠানো হয়।কিন্তু তিনি ঐ রায় বাস্তবায়ন না করে চিঠি  গায়েব করে ফেলেন এবং  গত ২৮.৮.২৪ তারিখে তার ফেইসবুক  বিরুপ মন্তব্য করে প্রকাশ্যে আদালত অবমাননার দৃষ্টান্ত করেছেন।

এছাড়াও কলেজে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে তিনি কলেজের বিগত গভর্নিংবডির কমিটিতে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ড.আহমেদ আল কবির কে সভাপতি, সিলেট মহানগর এর সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগ নেতা তারেক উদদদীন তাজ সহ বিভিন্ন সদস্যকে  কমিটির সদস্য পদে  রাখেন। কলেজের অধ্যক্ষ পদ ব্যবহার করে আবিদুর রহমান তাঁর ফেইসবুকে আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীদের সাথে ছবি সহ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোগ্রামের অংশ গ্রহন করতে দেখা যায়  কিন্তু ৫ ই আগস্ট সরকার পরিবর্তন এর পর পরই তিনি কলেজে গত ২৭.৮.২৪ তারিখের সভায়  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে কথা বলে দল পালটানোর অপচেষ্টা করেন।

কলেজ অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান এর বির্তকিত কার্যকলাপ এর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও নিরপেক্ষ  তদন্ত কমিটি গঠন করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান প্রভাষক নয়ন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান বলেন,  শিক্ষক নয়ন বরখাস্ত হন আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে।পরে গর্ভনিং বডির সদস্যরা তাকে পুনর্বহালে রাজি হননি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে। আইনি পক্রিয়া শেষ হলে হয়তো তিনি চাকরি ফিরে পাবেন।

এ বিষয়ে কলেজ পরিদর্শক আব্দুল হাই জিন্নাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত আদেশ অবমাননা করার কোন সুযোগ নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের।এই আদেশ অবমাননা করলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি গর্ভনিং বডি বাতিল করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656