


শাহরিয়ার আহমদ আকিক: সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে একযোগে কর্মবিরতি পালন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (২৮ শে মে) উৎসব ভাতায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে সুনামগঞ্জসহ দেশের প্রতিটি উপজেলায় কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হলেও কর্মচারীদের সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এই বৈষম্যকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অমানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তারা।
কর্মবিরতি চলাকালে কর্মচারীরা সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”আমরা দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। উৎসব ভাতার মতো মৌলিক একটি সুবিধা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।”
তারা প্রশ্ন রাখেন, “আমরা কি অনাহারে মরব? শিক্ষক, আমলা ও সরকার কেন আমাদের প্রতি এই অবিচার করছেন? উৎসব ভাতার টাকা কি সরকার নিজে দেবে, না কি আমাদের দাবির সাথে কারও স্বার্থ জড়িত?”
কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, ১৯৬৯ সালের ২৪শে জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার জন্য। অথচ আজ, তার বিপরীত পথে হাঁটছে নীতি নির্ধারকরা।
তাদের অভিযোগ, “বর্তমান ব্যবস্থা সেই ঐতিহাসিক চেতনার বিরোধী। আমরাও এই দেশের নাগরিক, আমাদের ঘরেও উৎসব আসে, আমাদেরও পরিবার-সন্তান আছে। কিন্তু আমাদের দাবি শুনতে কেউ আগ্রহী নয়।”
কর্মচারীরা সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আন্দোলনের পরিসর আরও বড় হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।
এমপিওভুক্ত কর্মচারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যেন উৎসব ভাতায় বৈষম্যের এই দুর্বিষহ চিত্রের অবসান ঘটে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

