ওবায়দুল মুন্সী : চলছে হাওড়জুড়ে ধান কাটার উৎসব। কয়েকদিন পূর্বে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিদর্শন করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কৃষি ও সরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
শান্তিগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে তিনি সুনামগঞ্জের দেখার হাওড়ে ধানকাটা উদ্বোধন করেন এবং হারভেস্টার এর রেইটও নির্ধারণ করে যান। সেই থেকেই সুনামগঞ্জের প্রতিটি হাওড়েই কিছুকিছু ধান কাটা শুরু হয়েছিল। সুধীজনের মতামতের ভিত্তিতে বলা যায় যে,আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বৈশাখের ভেতরেই হাওরের সব ধান কাটা সম্ভব।
এদিকে ১৪ অক্টোবর ২০২৫ মঙ্গলবার,পানি উন্নয়ন কর্মকর্তা,কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের নিয়ে এক ব্রিফিং করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে।
ব্রিফিংয়ের বিষয়বস্তু ছিল 'সুনামগঞ্জ হাওরে বোরো ধান কাটা ও আগাম বন্যায় করণীয়'। এ অবস্থায় আবহাওয়া দফতরের তথ্যানুযায়ী ১৫থেকে ২১ এপ্রিল সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই হাওরে জমির ধান পেকে গেলে দ্রুত সেগুলো কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসন, কৃষি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
তবে এ নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এটি সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল।
ব্রিফিংয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ জানান, হাওরে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। কৃষকদের ধান কাটায় ৭৩ হাজার শ্রমিকের পাশাপাশি ১৬০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫টি রিপার মাঠে রয়েছে। এবার জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। এই ধানের বর্তমান বাজারদর ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, মাঠের অবস্থা ভালো। ধান কাটা ও গোলায় তোলায় সহযোগিতার জন্য জেলার কৃষি বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেল যে, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার সীমানায় অবস্থিত টগার হাওরে গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রথম আলো ,সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি খলিল রহমান তাঁর ১৫ তারিখের প্রতিবেদনে লিখেছেন- 'আতঙ্ক ছড়াবেন না, আতঙ্কিত হবেন না।
সুনামগঞ্জে এই সময়ে বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। ১৫ থেকে ২১ এপ্রিল বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে, মাঝারি কিংবা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে পূর্বাভাসে এ-ও বলা হয়েছে, এই সময়ে বন্যার আশঙ্কা কম।
জেলা প্রশাসনের আজকের প্রেসব্রিফিংয়ে আমি ছিলাম। যেহেতু বৃষ্টির আশঙ্কা আছে, তাই জমির পাকা ধান যেন কৃষকেরা দ্রুত কেটে ফেলেন ব্রিফিংয়ে সেই অনুরোধ করা হয়েছে, পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এটা প্রতি বছরই করা হয়।
বৃষ্টি হবে, পানি বাড়বে বলে জমির কাঁচা ধান কেটে ফেলবেন, হাওরে ঝাপিয়ে পড়বেন, এমনটা নয়।অনেক জমির ধান এখনো পাকেনি। কাঁচা ধান কাটতে কাউকে উৎসাহিত করবেন না।
অতীতে আমরা দেখেছি, এই সময়ে সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের একটা বাড়তি চাপে রাখার চেষ্টা করেন। বুঝে, না বুঝে আমরাও এতে যুক্ত হয়ে পড়ি। এটা ঠিক নয়। কৃষক ভাইদের সাহস দিন, পাশে থাকুন। অন্য বছরের তুলানায় এবার এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো মনে হচ্ছে।
আল্লাহ ভরসা। নিশ্চয়ই তিনি হাওরবাসীর প্রতি সদয় হবেন। আমরা আমাদের সোনার ধান গোলায় তুলতে পারব'।
যদিও এবছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে হাওরের ফসল বিভিন্ন রোগবালাই সহ হুমকির সম্মুখীন ছিল। পরিশেষে, দু'তিন দফায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে মোটামুটি ধানের ফলন ভালোই হয়েছে।
কৃষকদের ভালো থাকা মানে সারাদেশের মানুষের ভালো থাকা। মহান সৃষ্টিকর্তা ১৮ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদার যোগান দিয়ে থাকেন এই হাওরপারের কৃষকদের মাধ্যমে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা।
সম্পাদক: কাউছার উদ্দিন সুমন, নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ, বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান। অস্থায়ী বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়: জয়নগর বাজার, সুনামগঞ্জ। ই-মেইল: Haworbartaofficials@gmail.com মোবাইল: ০১৬৪৭-৮৩৪৩০৩।