


আরাফাত আজিজ সজিব
জমিজমা নিয়ে পুরনো বিরোধ। সেই রেশ গড়াল আদালত পর্যন্ত। এবার এক শিশুর নিছক দুর্ঘটনাকে ঘিরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়েরের অভিযোগে তোলপাড় পটুয়াখালীর দুমকী। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলেন গ্রামবাসীরা।
গতকাল সোমবার ২ জুন বিকেলে দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের মধ্য ঝাটারা হাজীবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে শামিল হন শতাধিক নারী-পুরুষ। তাঁদের অভিযোগ, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সাজানো মামলা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃত মানের উদ্দিন হাওলাদারের দুই ছেলে—মোকলেছুর রহমান ও আব্দুস সাত্তারের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিবাদ চলে আসছিল। সেই বিবাদই এবার রূপ নেয় আইনি লড়াইয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ৫ মার্চ। সেদিন বিকেলে পেয়ারা গাছে ওঠার সময় পড়ে যায় মোকলেছুর রহমানের নাতনি, শিশু ফাতিমা। তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা বলেই জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশীরা আরও বলেন, সাকিবুর রহমানের ফুফাতো বোন খাদিজার কাপড় চোপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানির মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয় যাতে মামলাটি পোক্ত করে আঃ সাত্তার হাওলাদার পরিবারকে হয়রানি করতে সুবিধা হয়।
অভিযোগ, মোকলেছুর রহমান আদালতে একটি মামলা করেন আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাকিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে। মামলা নম্বর—৩৮/২০২৫। এর ভিত্তিতে জেল হেফাজতে যান সাকিবুর।
সাকিবুর রহমানের অভিযোগ, “আমার ফুফাতো ভাই সাইদুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই নাসির উদ্দিন আমাদের বাড়ির পাশে ফার্নিচারের দোকান করতে চেয়েছিল। বিনিময়ে জমি চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু বাবা রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর হয়রানি শুরু হয়। এখন তো মিথ্যা মামলাতেই জেলে পাঠানো হলো আমাকে!”
মানববন্ধনে উপস্থিত গ্রামবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, এবং মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনও লিখিত কিছু পাইনি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

