সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি, ১০ দফা দাবিবিশ্বম্ভরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের দোয়া ও ইফতার মাহফিলজামালগঞ্জে আনসার ও ভিডিপির ঈদ উপহার বিতরণদিরাইয়ে পুলিশের নায়েক জুয়েল দাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনদ্রব্যমূল্য নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রীশান্তিগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিতপথচারী ও অসুস্থদের মাঝে টিম ছাতকের সেহরি বিতরণশান্তিগঞ্জে প্রবাসবন্ধু ফোরামের ঈদ উপহার বিতরণ জামালগঞ্জে কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল‎শান্তিগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

দেশীয় পোনামাছ নিধন বন্ধ করুন -ওবায়দুল মুন্সী

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫
  • ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক: দিন দিন আমাদের মিটাপানির দেশীয় লোকাল মাছ কমে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজারগুলো গেলে দেখা যায়, চাষের মাছে বাজার সয়লাব কিন্তু দেশীয় মাছ নেহায়েত কম।

তার কারণ-হাওড়াঞ্চলে মাছের অভয়ারণ্যের পর্যাপ্ত জলাভূমি নেই! যেগুলো আছে,ঠিকমতো পরিচর্যা ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে ঠিকভাবে মাছের বংশবিস্তার হচ্ছে না। এদিকে বিলবাদাল শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে আস্তে আস্তে দেশি মাছের সংখ্যাও কমে আসছে। মাছের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

চৈত্রের শেষে যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন খাল-বিল, নদী-নালা, হাওড়-বাঁওড় ও বিভিন্ন জলাশয়ে পানি জমতে থাকে এবং মা মাছগুলো ডিম ও পোনা ছাড়ে। বৈশাখ মাসে এই পোনামাছ বাড়তে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কিছু বিকৃত বুদ্ধিসম্পন্ন, অসাধু ও অসচেতন মানুষ এই ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছের ঝাঁক নির্বিকারে নিধন করে আসছে। নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, বাদাই জাল, সুতি জাল ব্যবহার করে প্রকাশ্যে চলে এ নিধনযজ্ঞ এবং বাজারে বিক্রিও হয় চড়া দামে।

গত রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯ টায় পাগলা বাজার থেকে খেয়াযোগে মহাসিং নদী পাড়ি দিয়ে কাদিপুর আসছিলাম। নদীতে বিরাট নেটের জাল ফেলেছে স্থানীয় জেলেরা। যে জালে মাছের ডিম সহ উঠে আসে। অনেকটা আবেগের বশেই জেলেদের বলেছিলাম-‘ভাইয়েরা একটা মাস পর জালটা ফেলতেন!তাহলে তো মাছের ডিমগুলো থেকে অনেক পোনা বের হতো। এতে নদীতে মাছে ভরে যেত।’ জবাবে, জেলেরা বললো-“ঠিকাছে, আমরা একমাস নয়! তিন মাস জাল ফেলবো না। এই তিন মাস আপনি আমাদের খাওয়াতে পারবেন?” আমি নিরোত্তর ছিলাম।

ঠিকই তো! জেলেদের এই পেশাকে বন্ধ করে দিলে,পরিবার নিয়ে চলবে কীভাবে। তাহলে বুঝা গেলো,মাছের প্রজননকালীন সময়ে জেলেদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারলে তবেই তিন মাস মাছ ও পোনা নিধন বন্ধ হতে পারে। এবিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন সরকারকে জরুরিভাবে অবহিত করতে পারেন।

মা মাছ নিধন মানে দেশের ক্ষতি দশের ক্ষতি। পোনামাছ ধরা থেকে বিরত থেকে তাদের বড় হতে দিতে হবে। এই মাছগুলোই এক বছরের খাবার হয়ে ফিরে আসবে। তাই আসুন, মাছের প্রজন্ম রক্ষায় আমরা সচেতন হই।

মাছের এই প্রজনন সময়ে হাওড়াঞ্চলের জলাভূমিগুলো পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পাহারা বসানো যায় এবং পেশাজীবী জেলেদের ত্রৈমাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে লাগাতার তিন বছর এভাবে রাখতে পারলে আবারও দেশি মাছে হাওর ভরে যাবে। আমরা আবারও মাছেভাতে প্রকৃত বাঙালি হবো।

পরিশেষে বলবো আমরা লেখকরা শুধুই লিখে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে সরকার কর্তৃক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও গুরুত্ব না দিলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। দেশের হাওরাঞ্চলের মৎস্য কর্মকর্তাদের এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক ওবায়দুল মুন্সী 

সদস্য, হাওড় বাঁচাও আন্দোলন,সুনামগঞ্জ।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656