সাব এডিটর আবু তাহের :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো ইউনিয়নজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদমুখর অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ রাতে লক্ষিপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়র্ডের সাবেক সদস্য আবুল হোসেন মেম্বারের ছেলে মামুনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র চানপুর গ্রামের আব্দুর রহমান দুপার বাড়িতে চুরির ঘটনা সংঘটিত করে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী পরিবার ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চেয়ে আবেদন করলে প্রশাসনিকভাবে সকাল ১০টায় সালিশের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের বেপরোয়া ও বেপরোয়া আচরণ পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একটি দুর্বৃত্তচক্র সন্ধ্যা ৭টার দিকে লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সরকারি অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করে এবং চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলামসহ একাধিক ইউপি সদস্যকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, হামলার পর তারা বাজার এলাকায় গিয়ে উগ্র স্লোগান দিয়ে মিছিল করে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে—যা নিঃসন্দেহে আইনের শাসনের প্রতি চরম অবমাননা।
ঘটনার পরপরই চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলাম বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন স্পষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এদিকে বিষয়টি জানার পর সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিমুদ্দিন আহমেদ মিলন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি—এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়; বরং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র সমাধান।
এরই প্রতিবাদে এবং প্রকৃত ঘটনা জনসাধারণকে জানানোর লক্ষ্যে শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে উন্মুক্ত অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ সভায় সাধারণ জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন—সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল হক নমু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ এম এ বারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, খলীলুর রহমান, মোরশেদ আলম, ডা. খোকন আহমেদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি ইউনিয়ন পরিষদ—যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আসে—সেই স্থানেই সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আইনের শাসনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছে। তারা বলেন, “এটি শুধু একটি হামলা নয়, এটি রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত।”
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সভায় উপস্থিত সাধারণ জনগণও ক্ষোভে ফেটে পড়ে একক কণ্ঠে বলেন—“অপরাধী যেই হোক, কোনো প্রভাব বা পরিচয় তাকে রক্ষা করতে পারবে না। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,
এ ঘটনার পর পুরো লক্ষিপুর ইউনিয়নে চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা।
সম্পাদক: কাউছার উদ্দিন সুমন, নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ, বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান। অস্থায়ী বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়: জয়নগর বাজার, সুনামগঞ্জ। ই-মেইল: Haworbartaofficials@gmail.com মোবাইল: ০১৬৪৭-৮৩৪৩০৩।