


রাজীব দাস
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : হাওড় পাড়ের খাগাউড়া গ্রামে জন্ম নিয়েছেন এক সংগীতপ্রেমী কিশোরী, যিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন ধামাইল গানের এক উজ্জ্বল মুখ। তিনি তুষ্টি তালুকদার, রফিনগর ইউনিয়নের সুরেলা কন্যা, যাকে আজ সবাই চেনে “ধামাইল কন্যা” নামে।
তুষ্টির পিতা রমা তালুকদার ও মাতা ঝর্না তালুকদারের ঘরে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল গভীর টান। নিজস্ব ঢঙে টুকটাক গাইতেন গান। সেই প্রতিভা চোখে পড়ে ধামাইল সংগঠক ও সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পিকলু সরকারের। একদিন হঠাৎ পিকলু সরকার তাকে নিয়ে একটি ধামাইল গানের পরীক্ষামূলক পরিবেশনা করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তুষ্টির সংগীত জীবনের নতুন অধ্যায় একটি সুবর্ণ সময়ের যাত্রা।
পিকলু সরকারের চেনা কণ্ঠে মাধুর্য আর ভাটির মাটির সুর একাকার হয়ে উঠেছিল। গঠিত হয় নতুন ধামাইল দল, “ললিতা ধামাইল”, যার নেতৃত্বে থাকেন তুষ্টি তালুকদার। এরপর একের পর এক সাংস্কৃতিক আসরে ডাক পেতে থাকেন তিনি। সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু করে স্থানীয় নানা মঞ্চে গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাকে বিমোহিত করেছেন এই কিশোরী প্রতিভা।
জাতীয় পর্যায়েও নিজ উপজেলা দিরাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তুষ্টি। বিশেষ করে, “আমি কৃষ্ণ কোথায় পাই গো” গানে তার অসাধারণ পরিবেশনা ইউটিউবে ৭ মিলিয়নের বেশি দর্শক আকর্ষণ করেছে। এছাড়া, “উঠান ধামাইলে সুর নদীর কিনারে, গৌর রূপে পাগল করলো আমারে” গানেও তিনি মিলিয়নের ঘর ছাড়িয়ে অনন্য পরিচিতি অর্জন করেছেন।
বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা এই কিশোরী তার বয়সেই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তুষ্টি শুধু গায়িকা নন, হাওড়াঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তার কণ্ঠে ধামাইল যেন এক অপরূপ মায়াবী সুর হয়ে প্রবাহিত হয়।
সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছেন তুষ্টি তালুকদার। তার স্বপ্ন, গানকে নিয়েই আগামীর পথচলা—আর আমাদের অপেক্ষা, এই সুরেলা পথিক একদিন পাড়ি দেবেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনের গণ্ডিও।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

