


রাজীব দাস:
সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের সিংহনাথ গ্রামের গ্রামবাসী বুড়া ঠাকুরের পূজাস্থল ও ধান মাড়াইয়ের খলা রক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে জমির বন্দোবস্ত বাতিলের আবেদন করেছেন। সেইসঙ্গে ভূমি দখলের আশঙ্কায় নালিশা জমিতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) আদালতে।
গ্রামবাসীর দাবি, সিংহনাথ মৌজার ১১১ নম্বর জেএল-এর এসএ খতিয়ানের ১১২৪, ১১৩৪, ১১৩৬, ১১৩৭ ও ১২৩৪ দাগের মোট ৩৯ একর ৮০ শতক জমির মধ্যে প্রায় ২৫ একর জমি ১৯৮৮ সালে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি নিজেদের ভূমিহীন পরিচয়ে বন্দোবস্ত নেন। অথচ এই জমি এলাকাবাসী দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে ধান মাড়াই, শুকানোর খলা এবং বুড়া ঠাকুরের পূজা ও চৈত্র মাসের ঐতিহ্যবাহী মেলা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
প্রতি বছর চৈত্র মাসের প্রথম রবিবার বুড়া ঠাকুর বৃক্ষতলায় বসে বিশাল মেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ হাজার হাজার মানুষ এখানে পূজা অর্চনা ও মানস পূরণে অংশ নেন। মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে, গড়ে উঠে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির মেলবন্ধন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি একটি ভূমিখেকো চক্র উক্ত জমিতে দখল স্থাপন করে পূজা, মেলা ও ধান মাড়াই কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি শ্মশান ঘেঁষে স্থাপনা নির্মাণ করে জমি নিজেদের দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে এলাকার মানুষ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে সিংহনাথ গ্রামের বাসিন্দা ও আবেদনকারী প্রজেশ তালুকদার বলেন, “দুই শত বছর ধরে আমরা এই খলায় ধান মাড়াই, পূজা এবং মেলা করে আসছি। এই জমির সাথে আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগ জড়িয়ে আছে। অথচ কিছু ভূমিখেকো ব্যক্তি প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের বঞ্চিত করতে চাইছে।”
অভিযুক্ত আব্দুস ছালাম দাবি করেন, “আমি ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত নিয়েছি। কারও জমি দখল করিনি। এসি ল্যান্ড বলেছিলেন একমাস পর দেখা হবে, আমি তখনই স্থাপনা করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে দিরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম বলেন, “আবেদনটি পেয়েছি। বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই চলছে।”
এলাকাবাসী আশাবাদী, প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ধর্মীয় ও কৃষিকাজের ঐতিহ্য রক্ষা করবেন।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

