শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভাটির ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলায় ফেডারেশনের ওপর ক্ষোভ

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে

আকিক শাহরিয়ার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলে শতবর্ষ ধরে চলে আসা কুস্তি খেলা আজ শুধু একটি খেলাই নয়, এটি এক ঐতিহ্য, আবেগ ও সামাজিক সংহতির প্রতীক।

এই কুস্তি ঘিরেই গ্রামের মানুষ একত্র হন, সম্পর্ক জোড়া লাগে, গ্রাম্য মিলনমেলা বসে – যা এক সময় ছিল ভাটির হৃদস্পন্দন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য আজ বিতর্ক ও অনিয়মের জালে জড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিটি আয়োজন ঘিরে ছিল বিশাল পরিকল্পনা—গ্রাম্য প্রতিনিধি দিয়ে খেলার দিন নির্ধারণ, গ্রামের মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, গরু জবাই করে তিনবেলা আপ্যায়ন, চারপাশে মেলা, হাজারো দর্শকের সমাগম—সব মিলিয়ে এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব। অথচ এই আবেগ ও সংস্কৃতিকে ঘিরে এখন বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও আর্থিক জবাবদিহির অভাবে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ।

গঠিত হয়েছিল ফেডারেশন, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রায় ছয়-সাত বছর আগে সুনামগঞ্জের ৬৪টি গ্রামের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গঠিত হয় ‘সুনামগঞ্জ কুস্তি ফেডারেশন’। সভাপতি হন সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক হন ব্যবসায়ী আব্দুল মালিক।

প্রত্যেক গ্রাম থেকে ৩,০০০ টাকা করে সদস্য ফি এবং বিভিন্ন গ্রাম থেকে জরিমানাস্বরূপ আরও লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এই অর্থের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ গ্রাম প্রতিনিধিদের।

ফেডারেশনের ক্যাশিয়ার নেই, আয়–ব্যয়ের হিসাব কেউ জানে না। গ্রামবাসী প্রশ্ন তুলেছেন,লক্ষ লক্ষ টাকা কোথায় গেল?

আচরণে স্বেচ্ছাচারিতা, কমিটির মেয়াদ ফুরালেও বহাল তবিয়তে

ফেডারেশনের কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও এখন প্রায় ৫ বছরেও পদ ছাড়েননি সভাপতি ও সম্পাদক।বিভিন্ন খেলায় আমিনদের পক্ষপাতিত্ব, ভুল সিদ্ধান্ত ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে গ্রামে গ্রামে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে একতরফাভাবে ১২ থেকে ১৬টি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ৪টি লাইভ সম্প্রচারকারী চ্যানেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা খেলাধুলার স্বাধীনতার পরিপন্থী।

গ্রামের পক্ষ থেকে সোচ্চার কণ্ঠ: স্বচ্ছতা চাই

বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধি ও টিম লিডাররা জানান, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি ভাটির মানুষের ঐতিহ্য। যারা এটিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন, তারা ইতিহাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।

তারা আরও বলেন, এই সংগঠন এখন যেন রাজনীতির হাতিয়ার, জনকল্যাণমুখী কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ে না।

 জবাবদিহি ও সংস্কার দাবি কুস্তি প্রেমীদের

প্রবীণ কুস্তিগির ও গ্রাম্য সালিশকারকরা মনে করেন,এই ঐতিহ্য রক্ষায় চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সর্বগ্রামভিত্তিক গণতান্ত্রিক কাঠামো।

তারা বলেন, কুস্তি শুধু খেলা নয়—এটি ভাটির আত্মার সঙ্গে যুক্ত। এই খেলাকে কেন্দ্র করে যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে, তা যেন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার শিকার না হয়।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656