এম আর সজিব সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে রাতের আধারে যাত্রী ছাউনি ভাংচুরের ঘটনাকে
কেন্দ্র করে কয়েকটি দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায়
দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মনির উদ্দীন পক্ষের ৭ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাজীনগর গ্রামের মনির মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে রোববার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক চলাকালীন সময়েই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, মনির মিয়ার সমর্থকরা বৈঠকের মধ্যেই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায় এবং বাজারের বিভিন্ন দোকান লক্ষ্য করে ভাঙচুর শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে একটি মিনি মার্কেট ভাঙচুর, দুটি দোকানে লুটপাট এবং অন্তত তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রেহান স্টোর’ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া ‘বারাকাত রেস্টুরেন্ট’-এ ভাঙচুর চালিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা লুট সহ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্গুর মিয়ার।
সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত মতিউর রহমান, ইউনুস মিয়া,জাবেদ মিয়া,নুর জালাল মিয়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গুরুত্বর আহত মতিউর রহমান বলেন, সুদ খোর মনির মিয়া গত কয়েকমাস আগে যাত্রী ছাউনি ভেঙে তার মার্কেটের রাস্তা তৈরি করেছে। আমরা প্রতিবাদ করায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমাদের রেস্টুরেন্ট ভাংচুর করে নগদ টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।
শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে, যাদের পরবর্তীতে সোমবার ভোরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা পুলিশ হেফাজতে আছেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি।
এলাকায় সম্ভাব্য পুনরায় উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন পিপিএম বলেন,ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা।
সম্পাদক: কাউছার উদ্দিন সুমন, নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ, বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান। অস্থায়ী বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়: জয়নগর বাজার, সুনামগঞ্জ। ই-মেইল: Haworbartaofficials@gmail.com মোবাইল: ০১৬৪৭-৮৩৪৩০৩।