স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বসতভিটার বারান্দা ভেঙে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা এবং সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অরুন কুমার দাস।
গত ৩১ আগস্ট দেওয়া অভিযোগে অরুন কুমার দাস উল্লেখ করেন, তিনি শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের পাশে টাইলা বাজার এলাকায় বর্তমান স্যাটেলমেন্ট জরিপের ২৮৫ নম্বর দাগের ১৯৪ নম্বর খতিয়ানের ৭ শতক পৈতৃক সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সম্প্রতি এলজিইডির অধীনে সড়কটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পান লিটন সিংহ। কাজের তদারকিতে থাকা কনক দত্ত তার বসতঘরের সামনের বারান্দার অংশ ভেঙে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন অরুন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বারান্দা ভাঙতে বাধা দিলে তাকে ধমক দেওয়া হয় এবং তার আপত্তি উপেক্ষা করে বারান্দার অংশ ভেঙে সড়ক নির্মাণের কাজ চালানো হয়। অরুন কুমার দাস পেশায় দিনমজুর এবং অন্যের স-মিলে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, পাথর, রড ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তিনি। অভিযোগকারীর দাবি, সড়কের একদিকে ঢালাইয়ের কাজ চলার সময় অন্যদিকে নির্মিত অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী অরুন কুমার দাস বলেন, “আমার পৈতৃক রেকর্ডীয় জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। ঠিকাদারের প্রতিনিধি কনক দত্ত বারান্দা ভাঙার সময় বাধা দিলে আমাকে ধমক দেন। আমি গরিব মানুষ। ন্যায়বিচারের আশায় জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারের প্রতিনিধি কনক দত্ত বলেন, স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে রাস্তা মাপজোক করেই অরুন দাসের বারান্দার কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখনো রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।”
তবে সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ঢালাই করা অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। সরেজমিন তদন্তের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা, বারান্দা ভাঙার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাউছার উদ্দিন সুমন || নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ || বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: 01647-834303, বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়:- জয়নগর বাজার,সুনামগঞ্জ,সিলেট। ই-মেইল:- Haworbartaofficials@gmail.com
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2026