


মোঃ আবু সঈদ
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবে দৃশ্যমান না হয়ে কাগজে-কলমের প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লোজার এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় আসন্ন বোরো মৌসুমে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে গত ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার ৩২ দিন পার হলেও অনেক প্রকল্পে কাজের কোনো বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার কাউয়াজুরী হাওর, খাই হাওর, সাংহাই ও ছাইল্লানি হাওর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার এখনো সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কাউয়াজুরী হাওরের গুরুত্বপূর্ণ সিফতখালী ক্লোজারসহ বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হয়নি।
পরিদর্শনে দেখা যায়, কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৩৮, ৪০, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬২, খাই হাওরের পিআইসি নং ৫২ এবং ছাইল্লানি হাওরের পিআইসি নং ৬৫ ও ৬৬-তে এখনো কাজ শুরু হয়নি। অধিকাংশ পিআইসির সদস্যদের কাছ থেকেও কবে কাজ শুরু হবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৩৯ ও ৬১, খাই হাওরের ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ এবং ছাইল্লানি হাওরের ৬৪ নম্বর পিআইসিকে চলমান দেখানো হলেও এসব প্রকল্পের আওতাভুক্ত কোনো ক্লোজারে কার্যকর কাজ চোখে পড়েনি। কোথাও কোথাও এস্কেলেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের উপরিভাগ এক ফুট কেটে মাটি দুই পাশে ফেলে নামমাত্র ড্রেসিং করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, অক্ষত বাঁধে ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি কেটে নিচু করে মাত্র ১ থেকে দেড় ফুট মাটি ফেলে ড্রেসিং দেখানো হচ্ছে। এতে দিন দিন বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। অথচ এসব পিআইসিতে বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন বলেন, উপজেলায় মোট ৬৭টি প্রকল্প রয়েছে এবং সবগুলোতেই কাজ শুরু হয়েছে। কিছু পিআইসিতে আংশিক কাজ সাময়িকভাবে বাকি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, উপজেলার সব পিআইসিতে কাজ শুরু হয়েছে এবং তিনি নিজে একাধিক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। কিছু ক্লোজারে পানি নিষ্কাশনের কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে কাজের অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ।
এদিকে কৃষকরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকৃত তদারকির মাধ্যমে বাঁধের কাজ সম্পন্ন না হলে হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

