


সময় ও কথা। ওরা দুজন ভালো বন্ধু। কথা ভালো লিখতে জানে। সময়ও খুব ভালো আঁকিয়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় দুজনেই যোগ্যতানুযায়ী অংশগ্রহণ করে থাকে। সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণ করতে তাদের ভালো লাগে। এতে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে অনেক পুরস্কার জিতেছে দুজনেই। সংস্কৃতির সব শাখাতেই কমবেশি তাদের বিচরণ রয়েছে। কথা যেমন ভালো উপস্থাপনা করতে পারে ;সময়ও ভালো বক্তৃতা দিতে পারে। একবার জাতীয়ভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিত বক্তৃতার আয়োজন হয়েছিল। সেখানে দুজনে দুটি টিম নিয়ে অংশগ্রহণ করে প্রথম পুরুস্কার পেয়েছিল । তাদের এই কৃতিত্বপূর্ণ কর্মে মা-বাবা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ এলাকাবাসীও অনেক খুশি হন। শিশুবেলা থেকে এই দুই কিশোর-কিশোরীকে সারাদেশের সৃজনশীল ছোটোবড়ো অনেক কৃতীজনেরা চেনে। আজ কৈশোরে এসেও পড়ালেখার পাশাপাশি সৃষ্টিকর্মে সমানতালে অবদান রেখে যাচ্ছে তারা। একবার, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সারাদেশে জাতীয় পর্যায়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়েছিল। রচনায় কথা, চিত্রাঙ্কনে সময়, প্রথম স্থান অর্জন করে।
শুধু কী তাই! ছড়াপাঠ, বইপাঠ, বিজ্ঞানমেলা, খেলাধুলা সহ সবক্ষেত্রে তারা সমানতালে পারদর্শী। এই কৈশোরে, কথা যেমন লিখতে পারে, তেমনি সময়ও ভালো বৈজ্ঞানিক জ্ঞান রাখে। বিজ্ঞান মেলায় সে প্রতিবারই নিজের আবিষ্কারে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। কথাও নিজের লেখা ছড়া,গল্প, ও উপস্থাপনায় তার বন্ধু সময়ের মতোই। দুজনের আলাদা অভিজ্ঞতা থাকলেও কিছুকিছু জায়গায় দুজনের সমান অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুজনেই বইপাঠ ভালোবাসে। বিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেলে, গ্রন্থাগারে গিয়ে কিছুসময় বইপাঠ করে। কারণ- তারা জানে যে,যতই ক্লাসের বই পড়ে না কেন জ্ঞানার্জনে বিভিন্ন শিক্ষণীয় গ্রন্থও পাঠ করতে হয়। যদিও গ্রন্থাগারে এখন আর তেমন পাঠক দেখা যায় না। যারা আসে, তাদের অনেকেই বিসিএস বা চাকুরি সংক্রান্ত গ্রন্থপাঠেই আসে। তারপরেও গ্রন্থাগারের গুরুত্ব বাড়বে বৈ কমবে না !প্রযুক্তি-শিল্পবিপ্লবের এইদিনে সরকার গ্রন্থাগারগুলোকে ডিজিটালিশ করে নিয়েছে। গ্রন্থাগার শুধু বইপাঠে সীমাবদ্ধ থাকছে না ;এটা হবে আরও তথ্যনির্ভরশীল।
একদিন জনপ্রিয় একটি মিডিয়া এই দুই খুদের সাক্ষাৎকার নিতে আসে। শুরুতেই তাদের পরিচয় জিঙ্গেস করে। উত্তরে, দুজনে বলেছিল-‘যদিও আমাদের জন্ম জলজোছনার শহর,হাওরকন্যা সুনামগঞ্জে তথাপি, আমরা সারাদেশের। মিডিয়া আবারো প্রশ্ন করেছিল, তাদের এতো পড়ালেখার পাশাপাশি কীভাবে এসব কাজে সময় পায়। উত্তরে বলেছিল, ‘মানুষ চেষ্টা করলে কী না পারে! আমরাও পড়ালেখা ঠিক রেখে চেষ্টা করি, তাই পারি’।সময় ও কথা’র বাসা প্রায় কাছাকাছি। মিডিয়া, তাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরুস্কার ও সনদগুলো ভিডিও ধারণ করে নেয়। আরেকবার প্রশ্ন করে, আচ্ছা এই যে বাসাভর্তি এতো এতো পুরুস্কার ও সনদ দেখেছি সত্যিই আমাদের ভালো লেগেছে।এতে তোমাদের অনুভূতি কেমন লাগে? কথা জবাব দিল- এগুলো আমাদের প্রেরণা দেয়! আমরা আরও নতুন কিছু করার উৎসাহবোধ করি। মিডিয়া, প্রতিযোগিতায় যেসব পুরুস্কার দেওয়া হয় এতে কী তোমরা সন্তুষ্ট? সময় জবাব দেয়- নিশ্চই! কথা’র সাথে আমিও একমত পোষণ করি। আমি যেটা বলতে চাই সেটা হলো,অনেক বন্ধুরা প্রশ্ন করে যে আমরা শুধু পুরুস্কার হিসেবে, বই, ক্রেস্ট সনদ ইত্যাদি পাই কিন্তু নগদ কোনো অর্থ পাই কি-না। যদিও, সরকারি বেসরকারি কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকলেও এটা খুবই অপ্রতুল।কিছু অর্থ পেলে দরিদ্র ছেলে-মেয়েরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিতো।আর এই জিনিসপত্র বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কাজে লাগাতে পারতো। মিডিয়া, কথাকে বলল- এব্যাপারে তোমার কী ভাবনা?, কথাও জবাব দেয়- সময়ের সাথে আমিও বলতে চাই যে, আমরা জানি একটি রাষ্ট্রের মূল বিবেক জাগ্রত রাখেন বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মানুষেরা। সেজন্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী এদেশের অনেক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। সরকার যদিও কিছুকিছু কবি,সাহিত্যিক, ও লেখকদের সরকারি সুযোগসুবিধা দিয়ে থাকেন কিন্তু প্রকৃত অসহায় লেখকরা অনেকক্ষেত্রে বঞ্চিত হন। লেখালেখির ক্ষেত্রে,সরকারি মাসিক সচিত্র কিশোর পত্রিকা ‘নবারুণ’ ও বেতার বাংলায় লেখকদের সম্মানি দিয়ে থাকে। তাদের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা আশাকরি, আমরা যারা খুদে সৃষ্টিশীল আছি, আমাদেরও পুরুস্কার হিসেবে নগদ কিছু অর্থ বরাদ্দ থাকার দরকার। এতে গরিব প্রতিযোগীদের উপকার হবে। মিডিয়া-এবার শেষ প্রশ্ন? বড় হয়ে তোমরা কী হতে চাও?
দুজনে একসঙ্গে উত্তর দিলো, আমাদের খুদেমনে অনেক কিছু হওয়ার ইচ্ছা জাগে। তবে, বিশেষ করে আমরা বড় হয়ে ‘সুশিক্ষিত মানুষ হতে চাই’! জনপ্রিয় এই মিডিয়াটি পরে তাদের এই সাক্ষাৎকার প্রচার করলে দেশবিদেশে, সময় ও কথা’র পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায়।
লেখক: ওবায়দুল মুন্সী,
কবি,গল্পকার ও প্রাবন্ধিক
পাইকাপন, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

