শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জে ধান কাটার মেশিন বিক্রি করে ফের দখলে নেয়ার পায়তারার অভিযোগ 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • সংবাদ প্রকাশ : সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

আবু হানিফ নিজস্ব প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শাল্লায় কম্বাইন হারভেস্টার সি,ই (ধান কাটার) মেশিন বিক্রি করে ফের দখলে নেয়ার পায়তারার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সুনামগঞ্জে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র হুমায়ুন কবির। যার মামলা নং-সি.আর ১৩৪/২৪।
মামলায় জোরপূর্বক সুমন মিয়া নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ধান কাটার হরেভেস্টার মেশিন দখলে নেয়ার অভিযোগ করেন ভোক্তভোগী কৃষক হুমায়ুন কবির।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের ভূর্তকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ প্রকল্পে শাল্লা উপজেলার কৃষি অফিসের মাধ্যমে তাজপুর গ্রামের শান্তি মিয়ার পুত্র মোঃ সুমন মিয়ার নামে কম্বাইন হারভেস্টার সি,ই ধান কাটার মেশিন গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে ১ম কিস্তির তিন লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেড় বছর মেয়াদী কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের শর্তে সুমন মিয়া গত ২০২২ সালের ১২ই এপ্রিল হুমায়ুন কবিরকে একটি লিখিত স্টাম্পে স্বাক্ষীগণের সামনে ধান কাটার মেশিনটি সমজিয়ে দেন। সেই সাথে আর কোনদিন মেশিনটির মালিকানা দাবী করবেন না বলে অঙ্গীকার নামায় উল্ল্যেখ করা হয়। কখনো মালিকানা দাবী করলে তা আইনত বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও উল্লেখ্য থাকলে সাম্প্রতিক সময়ে মেশিনটির মালিকানা দাবী করছেন সুমন মিয়া। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ভোক্তভোগী হুমায়ুন কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে মেশিনটির দখলদারীতে থেকে ধান কেটে আসলেও জোরপূর্বক মেশিনটি আটকিয়ে রাখে সুমন মিয়া। এতে চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাটতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন ভোক্তভোগী কৃষক হুমায়ুন ।
এ বিষয়ে কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, ডাউনপেমেন্টসহ দেড় বছরের কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের শর্তে সুমন মিয়া উপস্থিত স্বাক্ষীগণের সামনে লিখিত স্টাম্পে আমাকে ওই ধান কাটার মেশিনটি সমজিয়ে দেন। আর কোনদিন মালিকানা দাবী না করার শর্ত থাকলেও তিনি এখন জোরপূর্বক মেশিনটি আটকিয়ে রেখেছেন। অথচ চুক্তি অনুযায়ী আমি কিস্তির সম্পূর্ণ ১৩ লক্ষ ০৮ হাজার ৯০০ টাকা পরিশোধ করে দখলদার হয়ে প্রায় দুই বছর ধরে ধান কেটে আসছি। চলতি মৌসুমে ধান কাটতে না পারায় আমার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সে জোরপূর্বক মেশিনটি দখল করে আমার কাছ থেকে কোন টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করছে। প্রতারণার মাধ্যমে আমার কাছে মেশিন বিক্রি করে কোম্পানির নিকট পরিশোধকৃত টাকাসহ মোট ১৩ লক্ষ ৮ হাজার ৯০০ টাকা আত্বসাৎ করে বেআইনীভাবে লাভবান হয়েছে। আমার কাছে মেশিনের মালিকানার সকল প্রমানাদি রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ওসি (তদন্ত) ওয়ালী আশরাফ জানান, এ বিষয়ে আদালতে একটি সি,আর মামলা রয়েছে। মামলাটি তদন্তনাধীন রয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656