


রবিবার (৪ঠা আগস্ট) বিকেল ২টা। ঐদিন ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একদিকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং অন্যদিকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিয়ে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,জমিয়তুল উলামায়ে ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রকাশ্য দিবালোকে কার্যত মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ প্রশাসন বিরোধীদলকে দমন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। আওয়ামী লীগ বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ব্যাপক ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর চালানো হয়। এরমধ্যে পুলিশ প্রথমে টিয়ারগ্যাস সেল নিক্ষেপ,২য় দফায় বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে যখন ব্যর্থ হয় তখনই শুরু করে বেপরোয়া গুলি বর্ষণ। শহরের আরপিননগর ও জামতলা আবাসিক এলাকার প্রতিটি বাসভবনে করা হয় পরিকল্পিত হামলা। ভাংচুরসহ লুটতরাজ চালানো হয় জেলা বিএনপির কার্যালয়। সাড়ে ৪ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় শিবিরের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ্আল হেলাল (৫০) ও আফতাব উদ্দিন (৩৩) নামের দুজন সংবাদকর্মীও। আল হেলাল রাষ্ট্র পরিচালিত জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস,জাতীয় দৈনিক খবরপত্র পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এবং আফতাব উদ্দিন জাতীয় দৈনিক জনতা পত্রিকা ও জাগরনী টিভির জেলা প্রতিনিধি। তারা কোন রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা কর্মী নন পেশায় উভয়েই সাংবাদিক। ঘটনার সময় সহকর্মীদের সাথে তারা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ কর্মসুচির সংবাদ সংগ্রহের জন্য যান। দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির অফিস ভাংচুর শেষে শহরের নতুন কোর্ট পয়েন্ট এর দিকে যখন চলে যায় ঠিক তখনই সর্বশেষ শক্তি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে বিএনপি। কিন্তু পথিমধ্যে প্রবল বাধা হয়ে দাড়ায় পুলিশ প্রশাসন। শত শত রাউন্ড গুলি ও বেপরোয়া কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে আদালত এলাকা,আরপিননগর ও জামতলার দিকে বিএনপি নেতাদেরকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। এসময় পুলিশের নিক্ষেপ করা টিয়ারগ্যাসে দুচোখ ঝলসে যাওয়ার উপক্রম হয় আল হেলাল ও আফতাব উদ্দিনের। আশংকাজনক অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সহকর্মীরা পাশের একটি বাসার গেইটের ভিতরে তাদেরকে নিয়ে যান। সেখানে চোখে মুখে ও মাথায় পানি ঢেলে তাদের জ্ঞান ফেরানো হয়। পরে তারা নিকটস্থ সুনামগঞ্জ আধুনিক চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানা যায়।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

