


যশোর জেলা প্রতিনিধি
অনার্স-মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করার পরও ভাল নেই তিন হাত-পা ছাড়াই বিশেষ প্রতিবন্ধী সাহিদা খাতুন। লেখাপড়ার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও জোটেনি বিশেষ কোটায় কোন সরকারি বা বেসরকারি চাকরি।
নানান প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে সমাজ উন্নয়নে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য একাধিক জয়িতা সম্মাননা পেলেও আজও অন্ধকারময় তার জীবন।
২০১৫ সালে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে শিখেছেন হস্ত ও কুঠির শিল্পের নানান কাজ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতায় হয়নি কোন সুযোগ সুবিধা। অপরদিকে সরকারি কোঠায় চাকরির বয়সসীমাও পার হতে আর মাত্র একটি বছর আছে তার।
সাহিদার লেখাপড়ার যোগ্যতা, তার কাজের দক্ষতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে অনেকে সাহায্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেনি।
দিনে দিনে সকল আশা ভরসা বিলীন হতে থাকা অদম্য মেধাবী সাহিদা খাতুন নিজ গ্রামে একটি প্রতিবন্ধি স্কুল গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান সমাজের বিত্তশালী ও বিবেকবান মানুষের কাছে।
শার্শার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের হাত ধরে সর্বশেষ প্রতিবন্ধি স্কুল গড়ার স্বপ্ন দেখেন সাহিদা খাতুন।
দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সংগ্রহে মিজানের সর্বোচ্চ চেষ্টায় লম্বা পথের অপেক্ষাও যেন নিজের মন মানষিকতাকে বিষাদের কাল অন্ধকারে হাবুডুবু খেতে থাকে সমাজের এই বিশেষ মানুষটি।
সর্বশেষ অনেক অপেক্ষার পর সেই মাস্টার্স পাস তিন হাত-পা ছাড়াই বিশেষ প্রতিবন্ধী সাহিদার স্বপ্নের প্রতিবন্ধী স্কুল তৈরি করে দেন উদ্ভাবক মিজানুর রহমান।
সাহিদা খাতুন জানায়, সর্বচ্চো লেখাপড়া করেও সমাজ এবং পরিবারের মাঝে বোঝা হয়েই আছি। কঠিন প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে দেখিয়ে দিয়েছি কিন্তু কোন কোটাই আমার একটা কর্ম সংস্থান হলোনা।
তামান্নার মতো প্রধানমন্ত্রীর ফোনের অপেক্ষায় সাহিদা খাতুন এমন ভাবে লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেন
শার্শার দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজান।
সাহিদা খাতুন বলেন, আমার স্কুলে শুধু প্রতিবন্ধি শিশুরাই নয়, বয়স্ক ও বিধবা নারী এবং শিক্ষিত প্রতিবন্ধি নারী-পুরুষ কর্মসংস্থানের শতভাগ সুযোগ পাবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানকার বিশেষ প্রতিবন্ধিরা হস্ত ও কুঠির শিল্পের নানান কাজ শিখে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখবে।
শাহিদা খাতুন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া গোপিনাথপুর গ্রামের রফি উদ্দিনের মেয়ে।
অদম্য মেধাবী মাস্টার্স ডিগ্রী পাশ করা সাহিদার শেষ স্বপ্ন প্রতিবন্ধি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন উদ্ভাবক মিজান ও সাহিদা খাতুন।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

