


মো. নিজাম উদ্দিন: সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে লিখা থাকে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেমনি দেশের মানুষ বিশ্বাস করে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ৭৫বছরের অতি পুরনো একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর। এতো নির্লজ্জ পতন আওয়ামী লীগের হবে কেউ কি চিন্তা করেছিল? তবুও পতন হয়েছে! শেখ হাসিনা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে হাজার হাজার কোটি টাকার দূর্নীতির সুযোগ দিয়ে দেশটাকে করেছে বিধস্ত। বিচার বিভাগকে উলঙ্গ করে, নিকৃষ্ট বিবেকহীন নির্লজ্জ হাজার হাজার কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে গণহত্যা চালিয়েছেন। শেষ রক্ষা কি হয়েছে? শেখ হাসিনা তার বাবা মা পরিবারের সদস্যদের হত্যাকান্ড নিয়ে নোংরা রাজনীতি করেছেন। শেখ হাসিনা তার শক্তিধর বাবার পতন থেকেও একটু শিক্ষা গ্রহণ করেনি। এমন নিষ্ঠুরতম পতনের মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়ার চাইতে এডলফ হিটলারের মতো আত্মহত্যা করা হতো তার জন্য অনেক সম্মানের। কিন্তু সমস্ত দম্ভ চুর্ণ করে তিনি পালিয়ে গেলেন! বিশ্ব ইতিহাসে শেখ হাসিনার নির্মম পতন লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে জাতি কিছুটা কলঙ্ক মুক্ত হয়েছে।
আমি যেহেতু একজন সমাজকর্মী, ছাতকের রাজনীতির সাথেও সক্রিয় ভাবে জড়িত সেহেতু ছাতকের প্রসঙ্গে একটু কথা বলি। সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন। আবার ২০০৮সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৬বছর সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২১বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাতক দোয়ারা বাজারে উল্লেখযোগ্য বা দৃশ্যমান কোন কাজ তিনি করতে পারেননি। তিনির বাড়ি উত্তর খুরমা ইউনিয়নে, এই ২১বছরে তার নিজের ইউনিয়নে এক গ্রাম থেকে অন্যগ্রামে যাতায়াতের কোন ভালো রাস্তা নেই। অর্থাৎ ৩৬টি গ্রামের সাথে কোন সংযোগ নেই, ব্রীজ কালভার্ট কাঁচা পাকা রাস্তা নেই। পুরনো যে রাস্তাগুলো তাও ভেঙে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
যেহেতু আমার বাড়ি উত্তর খুরমা ইউনিয়নে এবং আমি নিজেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম, আমি নিজে দেখেছি ইউনিয়নবাসীর কত চরম দূর্ভোগ।
আমি দীর্ঘদিন থেকে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক সভা সমাবেশে যখনই সুযোগ পেয়েছি প্রতিটি গ্রাম এলাকার মানুষকে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করেছি আপনারা সংগঠিত হয়ে এমপি মহোদয়ের সাথে দেখা করে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের রাস্তা সহ অন্যান্য ন্যায্য উন্নয়ন তার কাছ থেকে আদায় করেন। আমি সব সময় বলতে চেষ্টা করেছি তিনি উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসীর প্রতি অবিচার করছেন। তিনি যখন এমপি থাকবেন না? তখন বুঝবেন মুহিবুর রহমান মানিক উত্তর খুরমা ইউনিয়নের জনগণের কত বড় ক্ষতি করে গেছেন। সুতরাং সময় থাকতে ইউনিয়নবাসী আপনারা তার কাছ থেকে পাপ্যটুকু আদায় করেন। তা না হলে পস্তাতে হবে দীর্ঘ কাল। ভবিষ্যতে অন্য কোন নেতা ছাতক দোয়ারা বাজারের এমপি নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক কারণে উত্তর খুরমা ইউনিয়নে কোন উন্নয়ন কাজ হবে না।
আজকে রাগ ক্ষোভ কষ্ট ঘৃনা থেকে বলছি জনাব মুহিবুর রহমান মানিক উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসীর কাছে নন্দিত নাকি নিন্দিত? তিনি কি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নাকি তিরস্কার? আমি বলবো উত্তর খুরমা ইউনিয়নের জন্য তিনি অনেক বড় অভিশাপ। নিকট কিংবা অদুর ভবিষ্যতে উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসীর কাছে মুহিবুর রহমান মানিক নামটি হবে চরম অভিশপ্ত।
আমি উত্তর খুরমা ইউনিয়নের সমস্ত জনগণকে বলতে চাই। সিলেট বিভাগের অন্য যে কোন সংসদ সদস্যের তার নিজের ইউনিয়নের বাস্তব চিত্র আপনারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন। মাত্র পাঁচ বছরে একজন এমপি অন্তত তার নিজের ইউনিয়নকে কতটা আলোকিত আর প্রশংসিত করেছেন যুগান্তকারী উন্নয়নের মাধ্যমে। সে তুলনায় ২১বছরের এমপি পেয়ে আমরা কেমন আছি?
একটু হিসেব করে দেখুন ২১বছর মুহিবুর রহমান মানিক এমপি ছিলেন, তার নিজের ইউনিয়ন উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসী কতটুকু উন্নয়ন পেয়েছে? আমরা কি সত্যি খুব ভালো আছি?
আমি উত্তর খুরমা ইউনিয়নের সকল প্রিয়জনসহ সকল জনগণকে বলতে চাই মুহিবুর রহমান মানিক যদি উত্তর খুরমা ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে থাকেন! তাহলে তিনিকে অতি সম্মানে ইউনিয়নের চল্লিশ হাজার জনগণ একত্রিত হয়ে নাগরিক সংবর্ধনার মাধ্যমে সবাই একটি করে ফুলের তোড়া তার হাতে উপহার তুলে দেন। আর যদি তিনি মানুষের ন্যায্য প্রাপ্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করে থাকেন তাহলে ইউনিয়নের চল্লিশ হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে তিনিকে রাগ ক্ষোভ ঘৃনা থেকে কি উপহার দেওয়া যায় সে সিদ্ধান্ত আপনাদের। মনে রাখতে হবে সব সময় সবার ভাগ্যে ফুল জোটে না, মাঝে মাঝে গ্রামের মেঠো পথে হাটার জন্য অনু কিছু লাগে?
প্রিয় ইউনিয়নবাসী তিনি ইউনিয়ন উপজেলাবাসীর জন্য তেমন কিছু করতে না পারলেও নিশ্চয়ই নিজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এবং উপজেলায় অনেক দূর্নীতিবাজ সৃষ্টি করেছেন। স্বার্থের কাছে নৈতিকতার পরাজয় বিবেক অন্ধ। দূর্নীতির অনেক তথ্য কিন্তু আছে!
আমি উত্তর খুরমা ইউনিয়নের প্রাণপ্রিয় জনগণকে বলতে চাই ছাতক দোয়ারা বাজারের রাজনীতিতে মুহিবুর রহমান মানিকের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
উত্তর খুরমার মানুষ যারা মুহিবুর রহমান মানিককে দেবতা মনে করে তার পিছনে অনেক শ্রম ঘাম জরিয়ে সময় অর্থ ব্যয় করেছেন। বিনিময়ে আপনাদের দেবতা উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসীকে অন্ধকারে রেখে তিনি রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেলেন।
আপনাদের সন্তানদের সুন্দর আগামীর জন্য আর সময় নষ্ট না করে তওবা করে আওয়ামী লীগ ছেড়ে উত্তর খুরমা ইউনিয়ন বাসীকে কলঙ্ক মুক্ত করুন।
প্রাণপ্রিয় উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসী, প্রিয় ছাতকের শ্রদ্ধেয় সুধী জন, আমি আপনাদের এক অযোগ্য সন্তান। রাজনীতি করতে হলে উদ্ভট চরিত্র আর পেশিশক্তি থাকতে হয় যা আমার ছিল না, সেকারণে আজ আমি নির্বাসিত। মহান আল্লাহ সহায় থাকলে কিছু দিনের মধ্যে স্বদেশে ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ ভালো জানেন তিনি কাকে কখন কোথায় বসাবেন।
হাজার হাজার ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে, অবিস্মরণীয় বিজয়ে, বিস্ময়কর তারুণ্য নতুন এক হাজার হাজার ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে, অবিস্মরণীয় বিজয়ে, বিস্ময়কর তারুণ্য নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছে। আসুন ছাত্র জনতার সাথে একাত্ম হয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাই অংশ গ্রহন করি। আর বনিতা নয় হিংসা বিদ্বেষ ছেড়ে গড়ে তুলি একতা।
সাবেক চেয়ারম্যান উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ ছাতক,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

