শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

কিংবদন্তি শিক্ষক আব্দুর রউফ

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

আবু তালেব:: মানুষের জীবনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল জ্ঞান দান করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে সঠিক পথের দিশা দেখান। আমার কর্মজীবনে এমনই এক প্রিয় শিক্ষক ও সহকর্মীর সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছিল, যিনি আমাকে স্নেহ করতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন এবং সদা শুভকামনা জানাতেন। তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, মানবীয় গুণাবলী এবং নেতৃত্বের দক্ষতা আজও আমাকে মুগ্ধ করে।তিনি হলেন শিক্ষার আলোকবর্তিকা জনাব মো. আব্দুর রউফ।

বরেণ্য শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব মো:আব্দুর রউফ সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামে ১৯৪৫ সালের ৯ ই জানুয়ারি এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।তাঁর পিতার নাম মরহুম মো. মোমিন আলী (ব্যবসায়ী) ও মাতার নাম মরহুম আস্তুরা বিবি (গৃহিণী)। তাঁর বোনের নাম মরহুম হালিমা বেগম। তিনি পিতামাতার একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন। সরকারীভাবে “রত্নগর্ভা মা ” এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত মোছা: জাহানারা রউফ ছিলেন তাঁর জীবন সঙ্গিনী । তিনি ছিলেন ৭ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানের জনক।

আলহাজ্ব আব্দুর রউফ উজানীগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পরীক্ষায় উক্তীর্ণ হয়ে সরকারী জুবিলী উচচ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষায় উক্তীর্ণ

হন।পরে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসএসি ও স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।তৎকালীন পাকিস্তান আমলে তিনি ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি এড ডিগ্রীসহ উচচতর ডিগ্রী অর্জন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাক্রম ও পাঠদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ষাঠের দশকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই একজন আর্দশবান শিক্ষক হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার পাইগাও উচচ বিদ্যালয়ে (জাউয়াবাজার) কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ খ্রি. পর্যন্ত তিনি পাইগাঁও উচচ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ও নিজ গ্রামের জয়কলস উজানীগাও রশিদিয়া উচচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

১৯৬৯ খ্রি. তিনি সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ পান এবং সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি জুবিলী উচচ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্দের সময় সরকারি চাকরিজীবি হওয়া সত্তেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন। যার ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক তাঁর ঘর বাড়ি জালানো ও মালামাল ক্রোক করা হয়।পরবর্তীতে তিনি কিছুকাল জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

তিনি ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সরকারি জুবিলী উচচ বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সহিত শিক্ষকতা করেন।১৯৯৮ সালে তিনি সরকারি জুবিলী উচচ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান এবং পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে একই স্কুলে দায়িত্বপালন করেন।পরবর্তীতে তিনি সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকতা ও জেলা শিক্ষা কর্মকতা হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনকরেন। একজন বিচক্ষণ দক্ষ প্রশাসক হিসেবে জেলা ব্যাপী তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে। ২০০২ সালে জেলা শিক্ষা অফিসারের পদথেকে অত্যন্ত সুনামের সহিত তিনি অবসরপ্রাপ্ত গ্রহণ করেণ।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা সহ কেন্দ্রীয় কমিটির (যুগ্ম সম্পাদক) বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একাধিকবার তিনি নিজ গ্রাম উজানীগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়কলস উজানীগাও রশিদিয়া উচচ বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবন এবং গ্রামের মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অবসরপ্রাপ্তির পর তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ এর উপদেষ্টা,সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডাইরেক্টর, সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেট এর উপদেষ্টা,সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী জায়গা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশ এর সভাপতির দায়িত্বপালন সহ এলাকার ও গ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি এমন একজন মেধাবী ব্যক্তি, যিনি কেবল একজন শিক্ষক নন, বরং শিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে এক পশ্চাৎপদ জনপদে আলোর ঝলকানি ছড়িয়েছেন। গ্রামীণ পরিবেশে শৈশব কাটানো এই মহান ব্যক্তিত্বের সমগ্র জীবন কাটিয়েছেন গ্রামের ছায়া সুনিবিড় স্নিগ্ধ শান্ত সবুজ শ্যামলিমায়।শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত নিভৃত পল্লীর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মোহ তিনি ত্যাগ করতে পারেননি । গ্রামীণ এই নিসর্গ প্রীতি তার হৃদয় কে করেছিল প্রসারিত, দৃষ্টি কে করেছিল শানিত।তাইতো তিনি এই মাটি ও মানুষের মমতা ছিন্ন করে দূরে যেতে পারেননি। আজীনই রয়ে গেলেন তাদের প্রীতির বন্ধনে।

শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার জ্ঞানের গভীরতা, মমত্ববোধ, এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্তর্নিহিত ভালোবাসা তাকে শুধু শিক্ষক নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তার কর্মজীবন ছিল বর্ণাঢ্য এবং অনুপ্রেরণার এক অপূর্ব উৎস।

সুনামগঞ্জের মতো এক পশ্চাৎপদ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে জনাব মো. আব্দুর রউফ ছিলেন একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। তার শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী জীবনের সঠিক দিশা খুঁজে পেয়েছে। তিনি শুধু শিক্ষাদানে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সমাজের নানা স্তরে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মানুষকে আলোকিত জীবনের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তার হাতে গড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং তার আদর্শকে বয়ে নিয়ে চলেছেন।

জনাব মো. আব্দুর রউফের চেহারা ও পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্টাইলিশ ও রুচিশীল। গ্রীষ্মকালে তাঁর সাদা ফুলহাতা শার্ট ও প্যান্ট যেমন শীতলতার প্রতীক ছিল, তেমনি শীতকালে তাঁর পরা সাফারি এবং স্যুট দারুণ সজ্জিত ও আভিজাত্যের পরিচায়ক ছিল। তাঁর দীর্ঘ, সুঠাম দেহাবয়ব এবং সুশৃঙ্খল আচরণ তাঁকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল।

তাঁর বাচনভঙ্গি ছিল অতুলনীয়। প্রতিটি শব্দে তিনি বুনে দিতেন বুদ্ধিমত্তা, মাধুর্য এবং গভীর ভাবনা। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর শিক্ষাদান ছিল একেবারে প্রাণময়; শুধু পাঠ্যপুস্তকের সীমাবদ্ধতায় আটকে না থেকে তিনি জীবনের প্রকৃত শিক্ষা দিতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর কথার ধারা ছিল এতই বুদ্ধিদীপ্ত যে, তা শোনা মাত্রই শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে যেতেন। ক্লাসরুম হোক বা আনুষ্ঠানিক মঞ্চ, তিনি তাঁর উপস্থিতি দিয়ে স্থানকে আলোকিত করতেন।

জনাব মো. আব্দুর রউফ ছিলেন সময়ানুবর্তিতা, সততা এবং শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ। শিক্ষার্থীদের তিনি শুধু ভালো গ্রেড অর্জনের জন্য নয়, বরং মানবিক গুণাবলিতে পরিপূর্ণ হতে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাঁর শেখানো প্রতিটি পাঠ ছিল জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সান্নিধ্যে আসা প্রত্যেকেই তাঁর কাছ থেকে কোনো না কোনোভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

তাঁর পেশাগত জীবনের বাইরে সামাজিক দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। তাঁর ব্যবহারে ছিল এমন এক গভীরতা ও আন্তরিকতা, যা তাঁকে শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সম্মানের আসনে বসিয়েছিল।

তিনি তাঁর কর্মজীবনে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সহানুভূতিশীল এবং সহমর্মী। সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সহানুভূতি ছিল প্রশংসনীয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো। তাই তিনি সদা পরোপকারী ও সহানুভূতিশীল ছিলেন।

তাঁর মধ্যে থাকা সহনশীলতা ও আত্মসংযম ছিল উল্লেখযোগ্য। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি ধৈর্য বজায় রেখে সমস্যার সমাধান করতেন। তাঁর দৃঢ় মানসিকতা ও দৃঢ়চেতা মনোভাব তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছিল। তিনি কেবল একজন শিক্ষক নন, একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজের সুনাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তাঁর নেতৃত্বগুণ ছিল অসাধারণ। তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচালনা করতেন দূরদর্শিতার সঙ্গে। শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পড়ানোতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করতেন। তাঁর যোগাযোগ দক্ষতা ছিল চমৎকার, যা তাঁকে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রিয় করে তুলেছিল।

তাঁর মধ্যে ছিল নেতৃত্বের প্রতিটি প্রয়োজনীয় গুণাবলী। তিনি কেবল কাজের নির্দেশ দিতেন না, বরং নিজেও কাজ করে উদাহরণ সৃষ্টি করতেন। তাঁর মহানুভবতা ও আত্মসম্মানবোধ অন্যদের কাছে ছিল অনুকরণীয়। তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে একজন নির্ভরযোগ্য নেতা ও পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতেন।

একজন নেতা হিসেবে তিনি সাহসিকতা ও উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি জানতেন কীভাবে সহযোগিতা করতে হয় এবং কীভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাঁর মধ্যে ছিল সমস্যা সমাধানের অসাধারণ দক্ষতা। কর্মক্ষেত্রে তিনি সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতেন এবং কাজের পরিকল্পনা করতেন দক্ষতার সঙ্গে।

এই শিক্ষকের চরিত্রে কোমলতা ও কঠোরতার এক অনন্য সংমিশ্রণের সামঞ্জস্য মিশে ছিল। তিনি জানতেন কখন কঠোর হতে হয় এবং কখন কোমল। তাঁর দূরদর্শিতা ও সৃজনশীলতা তাঁকে একজন প্রজ্ঞাবান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

তাঁর মধ্যে যে মানবীয় গুণাবলী ছিল, তা সত্যিই বিরল। বিনয়, আন্তরিকতা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, স্নেহ প্রবণতা এবং সহনশীলতা তাঁকে আদর্শ শিক্ষক ও সহকর্মী হিসেবে পরিচিত করেছিল। কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে থেকেও তিনি নিজের আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন।

নিজের সন্তানদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জনাব মো. আব্দুর রউফের প্রচেষ্টা ছিল অনন্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, অর্থ বা সম্পত্তি নয়, সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলাই প্রকৃত সম্পদ। তার এই বিশ্বাস এবং প্রচেষ্টার ফলে তার সাত পুত্র এবং চার কন্যা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তার জ্যেষ্ঠ সন্তান,বিপ্লব সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। দ্বিতীয় পুত্র,পল্লব অধ্যক্ষ,আব্দুল মজিদ কলেজ,শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ। তৃতীয় পুত্র দুর্লভ এম.কম পাস করে সিলেটের একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। সুলভ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে সিলেটের ‘এমএন্ডএন” কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে “জিএম” পদে কর্মরত আছেন। নয়ন এম এ পাস করে মইন উদ্দিন আর্দশ মহিলা কলেজ,সিলেটে শিক্ষকতা পেশায় ছিল। বর্তমানে উচচ শিক্ষার্থে যুক্তরাজ্যের হার্ডফোর্ডশ্যায়ার ইউনিভার্সিটি থেকে

এম এ এডুকেশন উইথ এডভান্সড রিসার্চ কোর্স উপর গবেষণা করছে। চয়ন ও জীবন উচচ শিক্ষা সমপন্ন করে ব্যাংকিং খাতে কর্মরত।চয়ন ট্রাস্ট ব্যাংক এর সিনিয়র কর্মকতা, সুনামগঞ্জ শাখা ও জীবন ট্রাস্ট ব্যাংক এর কর্মকতা, শাহজালাল উপশহর,সিলেট শাখা।

তার কন্যারাও উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। লুছি ও ইতি হাইস্কুল শিক্ষক, ডেইজি ও নাইছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। নাইসি সরকারি চাকুরী ছেড়ে বর্তমানে স্থায়ীভাবে তারঁ পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

শিক্ষকতা এক মহান পেশা, আর এই পেশায় নিজেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জনাব মো. আব্দুর রউফ। তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন ছাত্র-শিক্ষকদের প্রেরণার উৎস, আদর্শ এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি, ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষাদানের অসামান্য দক্ষতা তাঁকে করে তুলেছিল একজন কিংবদন্তি।

এমন একজন শিক্ষককে নিয়ে যত প্রশংসাই করা হোক না কেন, তা কমই হবে। তিনি শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আদর্শ। জনাব মো. আব্দুর রউফ আজও আমাদের হৃদয়ে জীবন্ত, তাঁর কর্ম ও শিক্ষার আলো দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করে চলেছেন।

জনাব মো. আব্দুর রউফের জীবন শুধু একজন শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং একজন পথপ্রদর্শক, সমাজসংস্কারক এবং একজন মহান অভিভাবক হিসেবে আদর্শ হয়ে থাকবে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে শিক্ষার আলো কেবল একটি ব্যক্তির জীবন নয়, বরং পুরো সমাজকে আলোকিত করতে পারে।

তার জীবন আমাদের জন্য এক মাইলফলক। একজন মানুষ কতটা নিবেদিত হতে পারেন তার প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি। তার কর্মগাথা আমাদের শিক্ষা দেয়, জীবনের প্রকৃত সাফল্য ধন-সম্পদে নয়, বরং মানুষের জীবনকে আলোকিত করতে পারায়। জনাব মো. আব্দুর রউফের স্মৃতি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে অমলিন থাকবে।

তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন মানুষ আমার জীবনে এসেছিলেন, এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি শুধু আমাকে নয়, আশেপাশের সবার জীবনেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কর্ম, আদর্শ ও গুণাবলী আমার হৃদয়ে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে।

গত ৯ ই নভেম্বর ২০২৪ খ্রি. তারিখে বাধ্যকজনিত কারণে সিলেটের এক প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই কীর্তিমান শিক্ষাবিদের বর্ণাঢ্য জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি ।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক 

সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় সুনামগঞ্জ।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656