মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
দারুল কিরাতের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে কুরআনের খেদমত: মাওলানা আব্দুল আজিজহাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি, ১০ দফা দাবিবিশ্বম্ভরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের দোয়া ও ইফতার মাহফিলজামালগঞ্জে আনসার ও ভিডিপির ঈদ উপহার বিতরণদিরাইয়ে পুলিশের নায়েক জুয়েল দাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনদ্রব্যমূল্য নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রীশান্তিগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিতপথচারী ও অসুস্থদের মাঝে টিম ছাতকের সেহরি বিতরণশান্তিগঞ্জে প্রবাসবন্ধু ফোরামের ঈদ উপহার বিতরণ জামালগঞ্জে কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

স্বপ্নের চন্ডিডহর সেতু আশ্বাসে বন্দী, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ : রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫
  • ৩১৫ বার পড়া হয়েছে

ওবায়দুল মুন্সী

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের জন্য যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ চন্ডিডহর নদীপথ। মহাসিং, ডাউকা ও কামারখালী—এই তিন নদীর মোহনায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পারাপার হন শুধুমাত্র একটি খেয়া নৌকায় ভর করে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের। বর্ষাকালে নৌকাডুবির আশঙ্কায় অভিভাবকদের আতঙ্ক চরমে ওঠে।

বহুদিন ধরেই চন্ডিডহর এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আর নানা আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন। প্রাক্তন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং বর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেন চৌধুরীর মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটির নামকরণ নিয়েও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ চান এটি ‘মান্নান সেতু’ নামে হোক, আবার কেউ চান ‘সুরঞ্জিত সেতু’। এই নামকরণ বিরোধ প্রকল্পটিকে আরও জটিল করে তোলে। যদিও অনেকেই মনে করেন, ‘চন্ডিডহর সেতু’ নামেই বিষয়টির সমাধান হতে পারত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, এম এ মান্নান মন্ত্রী থাকা অবস্থায় চাইলেই সেতুটি বাস্তবায়ন করা যেত। কিন্তু নাম না থাকায় তিনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ তাদের। শান্তিগঞ্জের পাইকাপন গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “মান্নান সাব চাইলে অনেক আগেই সেতুর কাজ শুরু করতে পারতেন। কিন্তু তাইনের নাম না থাকায় কাম আটকা পড়ছে।”

সেতুটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছিলেন জগন্নাথপুরের তেলিকোণা গ্রামের মাস্টার কুতুব উদ্দিনসহ কয়েকজন। পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে সরাসরি দরখাস্তও জমা দেওয়া হয়েছিল। এক পর্যায়ে ঢাকা থেকে প্রকৌশলীরা এসে জায়গার পরিদর্শন ও মাটির পরীক্ষা করেন। মন্ত্রী আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মাস্টার কুতুব বলেন, “এত বড় রাণীগঞ্জ সেতু করতে পারলে চন্ডিডহর সেতু করা কোনো ব্যাপার না, শুধু সদিচ্ছার দরকার ছিল।”

দিরাই উপজেলার মাওলানা কামরুজ্জামান বলেন, “এই সেতুর কথা প্রথম তুলেছিলেন বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তারপর একে একে জয়া সেন ও এম এ মান্নান সাহেব আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কাজ আজও শুরু হয়নি। জনগণ বুঝে গেছে—এ সবই ছিল কথার ফুলঝুরি।”

স্থানীয় তরুণ সমাজকর্মী মাসুদুল হাসান দুলন বলেন, “সেতুটি নির্মিত হলে এই চার উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে এবং ঢাকার সঙ্গে দূরত্বও অনেকটা কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।”

চন্ডিডহর সেতু আজ লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি এই প্রকল্প। বর্তমান সরকারের কাছে এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে চন্ডিডহর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হোক।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656