মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
দারুল কিরাতের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে কুরআনের খেদমত: মাওলানা আব্দুল আজিজহাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি, ১০ দফা দাবিবিশ্বম্ভরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের দোয়া ও ইফতার মাহফিলজামালগঞ্জে আনসার ও ভিডিপির ঈদ উপহার বিতরণদিরাইয়ে পুলিশের নায়েক জুয়েল দাসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনদ্রব্যমূল্য নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রীশান্তিগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিতপথচারী ও অসুস্থদের মাঝে টিম ছাতকের সেহরি বিতরণশান্তিগঞ্জে প্রবাসবন্ধু ফোরামের ঈদ উপহার বিতরণ জামালগঞ্জে কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

ইউরোপের টাকার জন্য ১৩বছরের ছেলেকে অপহরণ

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : সুনামগঞ্জের ছাতকে ইউরোপে যাওয়ার জন্য দাবি করা টাকা না পেয়ে ১৩ বছরের স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে লুকিয়ে রেখে সাজানো অপহরণ নাটকের মাধ্যমে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে জাউয়া বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন জানান, তাঁর চাচাতো বোন সাহানা জাহান পলি ২০০৬ সালে ছাতক উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েল বক্সকে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পলি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন ইকবাল।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পলি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সুনামগঞ্জ আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এতে স্বামী জুয়েল ২২ দিন কারাভোগ করেন। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকনামাও পাঠান পলি।

তবে কারামুক্তির পর দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েল প্রতিশোধ নিতে নতুন পরিকল্পনা আঁটেন বলে অভিযোগ করেন ইকবাল হোসেন। তাঁর দাবি, “স্কুলপড়ুয়া ছেলে তাহসিন বক্সকে লুকিয়ে রেখে সিলেট এয়ারপোর্ট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন জুয়েল। এরপর মানববন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার চালিয়ে অপহরণ নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন।”

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নাটকীয়তা হিসেবে বিবেচনা করায় মামলা গ্রহণ করেনি। পরে পলি নিজেই ছাতক প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, “আমার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মিলে ছেলেকে লুকিয়ে আমার চাচা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মূলত নারী নির্যাতনের মামলা প্রত্যাহার করতেই তারা এই পথ বেছে নিয়েছে।”

এরপর আদালতে ১০০ ধারায় পিটিশন দায়ের করলে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়। পলি ছেলে ফিরে পান এবং স্বামী-স্ত্রী পুনরায় একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

ইকবাল হোসেন জানান, সমঝোতার পর পলি তাঁর চাচা সৈয়দুল ইসলামের কাছে ইউরোপ যাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। চাচা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফের ছেলে তাহসিনকে ব্যবহার করে অপহরণের আরেকটি নাটক সাজানো হয়। পলি এবার সিলেট আদালতে অপহরণ মামলা করেন, যেখানে তাঁর চাচা সৈয়দুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাহানা জাহান পলির স্বামী দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েল বক্স বলেন, “আমার ছেলেকে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার চার মাস পর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি, যা সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।”

স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, বিষয়টি পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিবাদের জটিল রূপ। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

এ ধরণের আরও সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা নিবন্ধন নাম্বার (মফস্বল -২১১) © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-২০২৫
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-b3b0bbe71a878d4c2656