


শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান: কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও শান্তিগঞ্জের হাটগুলোতে বড় গরুর চাহিদা আশানুরূপ নয়। ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশি গরুর চড়া চাহিদার বিপরীতে বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যাপারীরা ও খামারিরা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হাটজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে হতাশার সুর।
পাথারিয়া হাটে আনোয়ার নামের এক বিক্রেতা এনেছেন বাহাদুর, সুলতান ও নবাব নামের তিনটি বড় গরু। এর মধ্যে বাহাদুরের ওজন প্রায় ৬ মণ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দুই একজন এসে দাম জিজ্ঞেস করছে, কিন্তু কেউ দরদাম করছে না।
একই ভাতগাঁও ভমবমি হাটেও। সেখানে এক বিক্রেতা এনেছেন বেলজিয়াম জাতের একটি বিশাল ষাঁড়, দাম চাচ্ছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে হাটে দেখা মিলছে দর্শকের, নেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় ক্রেতা। আরেক বিক্রেতা হতাশর সুরে বলেন “ ক্রেতা নাই, কিন্তু দর্শক প্রচুর। সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে, কেউ কিনতে আগ্রহী না। বড় গরুর বাজার মনে হয় এবার জমছে না।”
স্থানীয় খামারী হাসান জানান খরচের তুলনায় আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানের শঙ্কায় রয়েছি। “গত বছর দেড় লাখ টাকায় যে গরু বিক্রি করেছি, এবার একই আকৃতির গরু ১ লাখ ১০ হাজারের উপরে উঠছে না। অথচ গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে—খড়, ভুষি, খৈল সবকিছুরই মূল্যবৃদ্ধি আমাদের খামারিদের জন্য কষ্টকর করে তুলেছে।”
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা জানান, “উপজেলার প্রতিটি হাটে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সক্রিয়ভাবে তদারকিতে রয়েছে। আমরা নিশ্চিত করছি যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে পশু কেনাবেচা করতে পারেন।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারে শান্তিগঞ্জের প্রধান কোরবানির হাটগুলো—পাথারিয়া, ভাতগাঁও ভমবমি ছাড়াও নোয়াখালী, গণিগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ বাজারসহ বেশ কিছু অস্থায়ী হাটে ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত পশু কেনাবেচা চলবে।
হাটে দেশি গরুর চাহিদা বাড়লেও বড় গরুর বিক্রি স্থবির। এতে ব্যাপারী ও খামারিরা দুশ্চিন্তায়। বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশলের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কোরবানির বাজার এবার উৎসবের পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক সংকটও সামনে এনেছে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
সাব এডিটর : এ.এস. খালেদ, আবু তাহের

