রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুষ্টিয়ায় জমি সংক্রান্ত জেরে চাচাকে খুন : ভাতিজা আটকজাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা।শাল্লায় উদযাপিত হয় জাতীয় মীনা দিবস-২০২২।হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুসুনামগঞ্জ দিরাইয়ের ছাদিরপুর স্টেশনে একটি স্টেশনারী দোকানে অগ্নিকান্ড, প্রায় চারলাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাঁইনাসিরনগরে আর্দশ বীজতলা করে রোপা আমন রোপন হচ্ছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।।পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২নাসিরনগরে দূ্র্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভাবিশ্বনাথে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরাবিশ্বনাথ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন মুহিবুর রহমান!

আজ বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা : মারমা ভাষায় ওয়াছো’

হাওড় বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

 

আজ বৌদ্ধধর্মালম্বীদের শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা বা পার্বত্য চট্রগ্রাম পাহাড়ের বসবারত মারমাদের আজকের দিনটিকে মারমা ভাষায় ওয়াছো নামে সকলে কাছে পরিচিত। সকাল হতে বিহারে গিয়ে অবস্থানরত দায়ক ও দায়ীকারা সাদা পোষাক পড়ে অষ্টশীল পালন মধ্যে দিয়ে মারমাদের দিন শুরু হয়। এরপর গৌতম বৌদ্ধের প্রতি বুদ্ধ পূজা, ফুল পূজা,প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে থাকে। সকাল ৯ টায় মারমা সম্প্রদায়ের নর-নারীরা নতুন নতুন নিজের ঐতিহ্যবাহী থামী পোষাক পড়ে টিফিন কেরি ভাত হাতে নিয়ে বিহারে সারিবদ্ধ যেতে দেখা যায়। ঐ টিফিন কেরি ভাত গুলি প্রথমে গৌতম বুদ্ধ কাছে পূঁজা করি। তারপর বিহারধ্যক্ষ গুরু ভান্তে নিকট দুপুরে খাবার দান করে আশীর্বাদ গ্রহণ করে নেয়, বিহারে বিহারধ্যক্ষ পূজনীয় ভান্তেরা এই দিন হতে তিন মাস বর্ষবাস পালনে শুরু। বিহার ভান্তেকে এই তিন মাস কোন বিহারে গিয়ে রাত যাপন অবস্থান হতে বিরত থাকতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত সকল মারমা সম্প্রদায়ের গোষ্ঠীরা ।এ আষাঢ়ী পূর্ণিমা উৎসব বা মারমা সাক্রই ২৫৬৫ বুদ্ধাব্দ।
আবার বিকাল তিনটায় সকলে নারী ও পুরুষরা সারিবদ্ধ ভাবে বিহারে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ কাছে পঞ্চশীল অষ্টশীল গ্রহণ করে থাকে। এই আষাড়ী পূর্ণিমা উৎসব ধর্মীয় পালনে মধ্যে দিয়ে জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষরাও শান্তি সমৃদ্ধি বসবাস করতে পারি প্রার্থণা করে থাকে। মারমা সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ধর্মের রীতিমতো কেউ কেউ তিনমাস কোন মাংস খাবার হতে বিরত রাখে। অনেকে তিনমাস নিরামিষ শাকসবজি খেয়ে জীবন ধারন করছে। বৌদ্ধ ধর্মের ত্যাগের প্রকৃত মহা সুখ হিসেবে সকলে কাছে পরিচিত লাভ করছে। যে জীবনে যতদিন বেঁচে থাকব সে ততদিন সব কিছু ত্যাগ করতে পারে,তখন সে ধর্মের পরিপূর্ণ লাভ করবে কর্মে সুফল পেতে পারি। তাই সকল বৌদ্ধ মারমা সম্প্রদায়ের লোকরা অহিংসা পরম ধর্ম কে বিশ্বাস করি, এবং পাপকে ভয় করে পাপীকে নয়। মারমা সম্প্রদায়রা প্রতি বছর ওয়াছো উৎসব নিয়মিত পালন করে থাকি। মারমা সম্প্রদায়রা হাজার হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ ধর্মের অনুসারী ও পালন করছি। আজকের আষাড়ী পূর্ণিমা বা ওয়াছো উৎসব সকলে মারমা জাতি কাছে বড় মনে করি। সন্ধ্যায় বেলায় মারমা সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ধর্মের রীতিমত ফানুস উড়ে থাকে। সব্বে স ত্তা সুখিতা হোন্ত, জগৎতে সকল প্রাণী সুখী হউক।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গৌতম বুদ্ধ যেমন নিজ প্রচেষ্টায় জীবনের পূর্ণতা সাধন করে মহাবোধি বা আলোকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং জগজ্জ্যোতি বুদ্ধত্বপ্রাপ্ত হন তেমনিভাবে পূর্ণ চন্দ্রের মতো নিজের জীবনকে ঋদ্ধ করাই প্রতিটি বৌদ্ধের প্রচেষ্টা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা’র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধরা এই প্রচেষ্টার প্রতি তাদের অঙ্গীকার নবায়ন করে থাকে। শুধু সাধারণ বৌদ্ধ নয়, ভিক্ষুদের জন্যও আষাঢ়ী পূর্ণিমা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বৌদ্ধরা এদিনটিকে সচরাচর শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
ভিক্ষুদের অন্যতম বাৎসরিক আচার বর্ষাবাস শুরু হয় আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে; শেষ হয় আশ্বিনী পূর্ণিমাতে। বর্ষাকালে সিক্ত বসনে এদিক-ওদিক ঘোরা-ফেরা করা, বস্ত্র তুলে চলা-ফেরা করা মানায় না বিধায় যেখানে-সেখানে ভিক্ষুদের বাস না করে গৌতম বুদ্ধ বর্ষাবাস গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন বৌদ্ধ বিনয় মতে যে ভিক্ষু বর্ষাবাস যাপন করেন তিনিই কঠিন চীবর লাভের যোগ্য হন। বর্ষাবাস যাপন ব্যতিরেকে চীবর লাভ করা যায় না। যে বিহারের ভিক্ষু বর্ষাবাস যাপন করবে না, সেই বিহারে কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানও করা যাবে না। বর্ষাবাসের জন্য ভিক্ষুরা সংঘারাম, বিহার ও সাধনাকেন্দ্র বেছে নেয়।

লেখকঃ চাইথোয়াইমং মারমা
জেলা প্রতিনিধিঃ রাংগামাটি হাওর বার্তা
সাধারণ সম্পাদক, রাজস্থলী প্রেস ক্লাব রাংগামাটি।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281