মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

তাহিরপুরে হাওড় পাড়ের ১৮ টি গ্রামে নেই মাধ্যমিক বিদ্যালয় -হাওড় বার্তা 

হাওড় বার্তা ডেস্কঃ
  • আপডেট সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১
  • ৩২৯ বার পড়া হয়েছে

তানভীর আহমদ তালুকদারঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওর বেষ্টিত ও অবহেলিত শ্রীপুর (দঃ) ইউপি’র ১৮ টি গ্রামে নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফলে প্রাইমারী পেরিয়েই ঝরে পরছে শত-শত মেধাবী শিক্ষার্থী। কেউ লাঙল হাতে আর কেউবা কাস্তে, জাল (মাছ ধরার বাহক) ইত্যাদি হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা নেমে পড়ছে হাওরে। কখনো কখনো পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে শিক্ষার্থীরা হাল ধরে পরিবারের। যার ফলে শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে হাওর পারের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা। পরিবার গুলোতে যেন নেমে আসছে অন্ধকার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওর পারের ১৮টি গ্রামের মধ্যে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারছে না তাদের সন্তানেরা। ফলে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থীরা। ‘শিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড’ হলেও অমেরুদণ্ডী হয়ে বসবাস করছে হাওর পাড়ের অসংখ্য মেধাবী সন্তানেরা। ‘প্রধানমন্ত্রীর’ কাছে স্থানীয়দের দাবী গ্রামগুলোর মধ্যে যেকোনো গ্রামে যেন কমপক্ষে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওর পাড়ের অধিকাংশ মানুষেই কৃষক ও জেলে। সারা বছরেই তাদের পরিবার গুলোতে লেগে থাকে অভাব অনটন। যেন ‘নুন আনতে, পান্তা ফুরাই’। গ্রাম গুলোর মধ্যে প্রাইমারী স্কুল থাকলেও কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে প্রাইমারী পেরিয়ে আশে পাশে মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় ঝরে পড়ে শিক্ষার্থীরা। উপজেলা সদরে দুটি বিদ্যালয় (‘তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’ অপরটি ‘তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’) থাকলে কিছু কিছু গ্রাম থেকে দূরত্ব প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার। পৈন্ডুপ গ্রামে ১টি নিন্ম-মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লামাগাঁও গ্রামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় থাকলেও অন্যান্য গ্রাম থেকে দূরত্ব প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার। তবুও যাতায়াতের নেই কোনো ব্যবস্থা। বর্তমানে যাতায়াত ব্যবস্থা যেন ‘হেমন্তে পাও আর বর্ষায় নাও’। সব মিলেয়ে হাওরবাসী বেশি ভুগছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। সচেতন মহলের দাবী গ্রামগুলোর মধ্যস্থলে (সুলেমানপুর/পাটাবুকা গ্রামে) মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ হলে এ সমস্যা সমাধান হবে ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর (দঃ) ইউনিয়নের অবহেলিত ১৮টি গ্রামগুলো হলো, শিবপুর, জাঞ্জাইল, সন্তোষপুর, ভবানীপুর, মানিকখিলা, বলাইকান্দি, জীবনপুর, পাটাবুকা, লতিবপুর, সুলেমানপুর, আনন্দনগর, নিশ্চিন্তপুর, শ্রীপুর, শাহ্গঞ্জ, ইক্রামপুর, নোয়াগাঁও, নয়ানগর, মারালা। শ্রীপুর (দঃ) ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রশীদ জানান, হাওর বেষ্টিত শ্রীপুর (দঃ) ইউনিয়নের অবহেলিত গ্রামগুলোর মধ্যে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ হলে প্রাইমারি স্কুল পাশ করে কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পরবে না। তাই আমাদের হাওরবাসীর দাবী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়নির্মাণ করা হউক। উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের রিপন হাবিব জানান, হাওর এলাকার গ্রামগুলোর মধ্যে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রাইমারি পেরিয়েই ঝরে পরে। যদি আমাদের হাওরের গ্রামগুলোতে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ হয় তাহলে আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে।একইভাবে ওয়াসিম ও আব্দুল আমীন জানান, আমাদের এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলে শিক্ষার দিক দিয়ে আরো এগিয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা।

তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃমিজানুর রহমার জানান, সরকারী ভাবে এখন আর কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় হবে না। স্থানীয়রা যদি নির্মাণ করতে চায় তাহলে করতে পারবে।সুুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান, সেখানে একটি হাই- স্কুল করার জন্য আমিই স্থানীয়দের বলে ছিলাম। যেহেতু এখন বর্ষাকাল তাই আগামী বছর কাজ শুরু করবো ইনশাআল্লাহ্।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281