রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির তৃতীয় সম্মেলনে হাওর বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠনের দাবি।দূর্নীতির বিষবৃক্ষে জাতি দিশেহারা, মুখ বন্ধের শেষ কথায় ?সুনামগঞ্জের কুস্তি খেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনহজ্জের অন্তরালে অবৈধ ভাবে একাদিক বিয়ে করছেন আয়েশাছাতক-দোয়ারাবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুষ্টি গুণ বিস্কুট বিতরণ।শান্তিগঞ্জে নতুন করে যাত্রা শুরু করলো রুরাল ডেভেলপমেন্ট হেল্থ সেন্টার এন্ড ডায়াগনস্টিক।বিশ্বম্ভরপুর থানায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার ও লাইব্রেরির উদ্ভোধন। ছাতকে শিক্ষানুরাগী নুর মোহাম্মদ ময়না মিয়া’র ইন্তেকাল।হাওড়ের নেই মাছ : ঋনের চাপে দিশেহারা জেলে।বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড.মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি অনলাইন ফোরামের উপদেষ্টা মনোনীত হলেন উম্মে ফারজানা ডায়না।

মাহারাম নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলন না করতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন- হাওড় বার্তা

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশ বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
  • ৬৬৯ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাহারাম নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলন না করতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। গত রবিবার এলাকার জনস্বার্থে এ আবেদনটি করেন উপজেলার ৪নং বড়দল (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম।

জানা যায়, উপজেলার ৪নং বড়দল (উত্তর) ইউনিয়নের রাজাই মৌজার চালিয়ারঘাট মানসীগোফ মৌজাস্থীত ও মাহারাম (পাটলাই) নদীর সাথে যাদুকাটা নদীর সংযোগ থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীর তীরবর্তি বিস্তীর্ণ এলাকা ও বোর ধানের হাওর সহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেত। যাদুকাটার শাখা নদী মাহারাম নদীতে প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাঁধ দেয়া হতো অকাল বন্যায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য। পাহাড় থেকে নেমে আসা পলি ও বালিতে এবং ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাহাড়ি ঢলে মাত্রাতিরিক্ত বালি চলে এসে স্থায়ীভাবে ভরাট হয়ে যায় মাহরাম নদীর মুখ। ফলে ৩৩ বছর ধরে বোরো ফসল রক্ষায় মাহরাম নদীতে আর বাঁধ দেয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।

সম্প্রতি কিছু দুষ্কৃতিকারী ও এলাকার সঙ্গবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন পন্থায় মাহারাম নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলনের পায়তারা করছে। প্রাকৃতিক সৃষ্ট বাঁধ থেকে বালি উত্তোলন করলে পাহাড়ি ঢলের আগাম বন্যার হুমকিতে পড়বে মাটিয়ান ও শনি হাওর সহ ছোট বড় হাওরের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর বোরো জমির ফসল। গত কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থায়ীভাবে বালিতে ভরাট হওয়া মাহরাম নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলন করার চেষ্টা করছে। ফলে পর্যটন স্পট খ্যাত শিমুল বাগান সহ নদীর পাড়ের অর্ধশতাধিক গ্রাম হুমকির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে।

দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহার আলী বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে বালিতে ভরাট হওয়া মাহারাম নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলন করলে বাঁধ ভেঙ্গে অর্ধশতাধিক গ্রাম হুমকিতে পড়বে।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, মাহারাম নদীর মুখে প্রাকৃতিক উপায়ে পলি পড়ে বিশাল বালির বাঁধ সৃষ্ট হওয়া ভাটি এলাকার হাওর পাড়ের মানুষের জন্য আশির্বাদ। যদি এ বাঁধটির মুখ থেকে বালি উত্তোলন করা হয় তাহলে উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামসহ হাওরের বোর ফসল হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, এ বছরই বৈশাখ মাসে যে পাহাড়ি ঢল এসেছিল, যদি মাহারাম নদীর মুখে বালির বাঁধ না থাকতো তাহলে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষা করা যেত না।

মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বশির আহমদ বলেন, মাহরাম নদীর স্থায়ী বাঁধটি কেটে বালি নিয়ে গেলে শুধু মাটিয়ান হাওর নয় উপজেলার সবকটি বোরো ফসলি হাওর আগাম বন্যার হুমকিতে পড়বে।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম বলেন, মাহারাম নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলন করলে তিনটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামসহ হাওরের বোর ফসল অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। এজন্যই এলাকার জনস্বার্থে নদীর মুখ থেকে বালি উত্তোলন না করতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত আবেদন দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলার তিনটি নদীতে মাননীয় সুপ্রিমকোর্ট লিজ দিয়েছেন। লিজ ব্যাতিত কোন স্থান থেকে অবৈধ ভাবে কেউ বালি উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের সংবাদ
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত পত্রিকা। © All rights reserved © 2018-2024 Haworbarta.com
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281