শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব ও ফজিলত – মুফতি আল আমিন ইসলাম সরকার যুক্তিবাদী

হাওড় বার্তা ডেস্কঃ
  • আপডেট শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ৩৭৭ বার পড়া হয়েছে

★সদকাতুল ফিতরের আভিধানিক অর্থ:- এটি একটি যুক্ত শব্দ। সদকা এর আভিধানিক অর্থ- ১. দান করা। আর ফিতর-এর আভিধানিক অর্থ-

১. ভঙ্গ করা।

২. সৃষ্টি করা।

৩. বিদীর্ণ করা।

সদকাতুল ফিতরের এর সম্মিলিত অর্থ হলো ভঙ্গ করার দান।

 

★পারিভাষিক অর্থ:-

১.ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়-

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অভাবগ্রস্তদের প্রতি মুসলমানদের প্রদত্ত ওয়াজিব সদকা।

 

২. জমহুর ফকিহগণের মতে-

মুসলিম ধনবান ব্যক্তিগণ ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বে এক সা বা অর্ধ সা পরিমাণ যে খাদ্য গরিবদেরকে দান করে থাকে, তাকে সদকাতুল ফিতর বলা হয়।

 

★সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব:-

 

১৫০৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَهْضَمٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ، وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى، وَالصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ‏.

 

বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) মুসলমানগণের প্রত্যেক গোলাম, স্বাধীন ব্যক্তি, নারী পুরুষ, ছোট বড় সবার ওপর সদকায়ে ফিতর ফরয করে দিয়েছেন। আর সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ হলো, এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ যব।

রাসূল (স) সদকায়ে ফিতরের এ দান ঈদুল ফিতরের উদ্যেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে করে গরিব মিসকিনরা প্রাপ্ত সদকা দ্বারা ঈদবস্ত্র ও খাদ্য-মিষ্টান্ন ক্রয় করে ঈদের খুশিতে শরীক হতে পারে। – (বুখারী শরীফ)

 

হাদিসের মানঃ সহীহ সহীহ

 

১৫০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ، ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى، مِنَ الْمُسْلِمِينَ‏.‏

 

ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

মুসলিমদের প্রত্যেক আযাদ, গোলাম পুরুষ ও নারীর পক্ষ হতে সদকাতুল ফিতর হিসেবে খেজুর অথবা যব-এর এক সা’ পরিমাণ [৪৭] আদায় করা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয করেছেন। – (বুখারী শরীফ)

 

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

 

১৫০৫

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا نُطْعِمُ الصَّدَقَةَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ‏.‏

 

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ যব দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। – (বুখারী শরীফ)

 

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

১৫০৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ الْعَامِرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ‏.‏

 

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা’ পরিমাণ যব অথবা এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ পনির অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। -(বুখারী শরীফ)

 

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

১৫০৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، قَالَ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِزَكَاةِ الْفِطْرِ، صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ فَجَعَلَ النَّاسُ عِدْلَهُ مُدَّيْنِ مِنْ حِنْطَةٍ‏.‏

 

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সদকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা’ পরিমাণ খেজুর বা এক সা’ পরিমাণ যব দিয়ে আদায় করতে নির্দেশ দেন। ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা যবের সমপরিমাণ হিসেবে দু’ মুদ (অর্ধ সা’) গম আদায় করতে থাকে। বুখারী শরীফ

 

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

১৫০৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ يَزِيدَ الْعَدَنِيَّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، قَالَ حَدَّثَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا نُعْطِيهَا فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ، فَلَمَّا جَاءَ مُعَاوِيَةُ وَجَاءَتِ السَّمْرَاءُ قَالَ أُرَى مُدًّا مِنْ هَذَا يَعْدِلُ مُدَّيْنِ‏.‏

 

আবূ সা’ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এক সা’ খাদ্যদ্রব্য বা এক সা’ খেজুর বা এক সা’ যব বা এক সা’ কিসমিস দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। মু’আবিয়া (রাঃ)-এর যুগে যখন গম আমদানী হল তখন তিনি বললেন, এক মুদ গম (পূর্বোক্তগুলোর) দু’ মুদ-এর সমপরিমাণ বলে আমার মনে হয়।

 

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

★সদকায়ে ফিতরের হুকুম:-

 

বুখারী শরীফের আলোচ্য হাদিস দ্বারা বুঝা যায়, সদকাতুল ফিতর আদায় করা ফরয। মূলত এর হুকুম কি হবে, এ ব্যাপারে ফকিহগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। যেমন-

 

১. ইমাম আবু হানিফা (রহ)’র অভিমত : ইমাম আবু হানিফা ও সাহেবাইনের মত, সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব; এটা ফরয বা সুন্নাত নয়।

 

২. ইমাম শাফেয়ী (রহ) ও ইমাম আহমদ (রহ)’র অভিমত: ইমাম শাফেয়ী ও আহমদ (রহ)’র মতে, সদকাতুল ফিতর আদায় করা ফরয। কেননা হাদিসে ফরয শব্দের উল্লেখ রয়েছে।

 

৩. ইমাম মালেক (রহ)’র অভিমত : ইমাম মালেক (রহ)’র মতে সদকাতুল ফিতর আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

 

★সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ :

 

সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ নির্ণয়ে ইমামগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। যেমন-

১.ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ (রহ)’র মতে, সদকায়ে ফিতর আদায়ে প্রত্যেককে এক সা তথা সাড়ে তিন সের পরিমাণ খাদ্য দিতে হবে। গম, যব, খেজুর, কিশমিশ এসবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

 

২. ইমাম আবু হানিফা (রহ)’র অভিমত : গম দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করলে অর্ধ সা দিতে হবে। আর অন্যান্য শস্য দ্বারা আদায় করলে পূর্ণ এক সা তথা সাড়ে তিন সের দিতে হবে।

 

★সদকায়ে ফিতর যার ওপর ওয়াজিব :

 

১. স্বাধীন হওয়া

২. মুসলমান হওয়া

৩. নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া।

৪. নেসাব পরিমাণ সম্পদ সর্বপ্রকার প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে অতিরিক্ত হওয়া।

 

ইমাম আবু হানিফা (রহ)’র মতে, যে ব্যক্তি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরন ও ঋণ আদায় করার পর ঈদের দিন সুবহে সাদেকের সময় নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।

 

★ সদকায়ে ফিতরের এর প্রকৃত হকদার :

 

সদকায়ে ফিতরের অর্থ তাদেরকে প্রদান করা ওয়াজিব, যারা যাকাতের অর্থের হকদার।

আর এসব লোক হচ্ছে –

১. ফকির

২. মিসকিন

৩.যাকাত আদায়কারী কর্মচারী

৪. ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য নওমুসলিম বা অমুসলিম।

৫. যেসব দাসদাসী নিজেদের মুক্তির ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ

৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি

৭. মুজাহিদ

৮. মুসাফির

লেখকঃ 

মুফতি আল আমিন ইসলাম সরকার যুক্তিবাদী,হবিগঞ্জী 

কামিল এম.এ হাদিস, এম.এ ফিকহ, এম.এ তাফসির,দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা।

মোবাইলঃ ০১৭১৪-৩৫২১৬৬

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281