শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় করোনায় চোখের জল মুছতে নিম্ন আয়ের মানুষ চাই সহায়তা কোথায় ? 

বি এম বাবলুর রহমান
  • আপডেট সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ২৮০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর প্রভাবে নাজেহাল হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বারংবার লকডাউনে থমকে গেছে মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ। পেটের খাবার জোগাতে লকডাউন উপেক্ষা করে রাস্তায় গেলে গুনতে হচ্ছে জরিমানা, আবার মামলাও হচ্ছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা ভ্যানগাড়িটি আটক করছে পুলিশ। এতে কান্নার রোল পড়েছে জেলার নিম্ন আয়ের পরিবার গুলোর।

প্রশাসন মাসুম অনুযায়ী, দেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্তে মানুষ কে ঘর মুখি করতে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তাও করা হচ্ছে। তবে নিম্ন আয়ের এসব মানুষদের অভিযোগ, লকডাউনের মধ্যে পড়ে উপার্জন হারিয়ে আটকা পড়া মানুষদের মিলছে না কোনো সরকারি সহায়তা। পরিবার নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন তারা।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ জুন থেকে সাতক্ষীরা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। চতুর্থ পর্যায়ে সাত দিন করে সময় বর্ধিত করে আজ সোমবার (২৮ জুন) লকডাউন চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাকাটার জন্য দোকানপাটগুলো দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

ইজিবাইক ও মোটরভ্যান চালকরা জানান, করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে বর্তমানে কোনো ত্রাণের সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা না খেয়ে মরছি। কেউ খোঁজ রাখে না। আমাদের খাদ্য দিলে ঘর থেকে বের হব না। গাড়ি আটক করে রেখেছে। এখন খাব কী?
সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার বৃদ্ধ ভ্যানচালক জিয়াদ আলী জানান, আমার ভ্যানটি আটকে রেখেছে। আট দিন বসে আছি, আয়রোজগার নেই, বাড়ির কারও মুখে খাবার দিতে পারছি না। কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। কী করব? আমি আর ভ্যান চালাব না, কিন্তু বিকল্প সরকার আমার একটা উপায় করে দিক।
শুধু জিয়াদ আলী নয়, তার মতো অনেকেই আয়রোজগার না করতে পেরে দিশেহারা। তারা বলছেন, সরকার তাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই বারবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাহলে আমাদের মতো নিম্ন শ্রেণীর লোক দের কথা সরকার ভাবছে কি ? বারবার বলছে সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু তা তো আমাদের কাছে এসে পৌঁছে না আমরা কি দেশের নাগরিক না।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোয় মাঠে রয়েছে পুলিশ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরিচালনা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাতে করে কঠোর অবস্থানে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেলায় ৫ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত মোটরভ্যান, ইজিবাইক ও মাহেন্দ্র গাড়ি জব্দ করা হয়েছে ৭০৬টি। মামলা দেওয়া হয়েছে ৪৫০টি ও ট্রাফিক পুলিশ জরিমানা আদায় করেছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, ২৭ জুন পর্যন্ত লকডাউনের বিধিনিষেধ প্রতিপালনে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাতটি উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছেন ১৭৭টি। এসব অভিযানকালে মামলা দেওয়া হয়েছে ৮৪৩টি ও জরিমানা আদায় হয়েছে ৮ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা।
এসব অভিযান দোকানপাট খোলা রাখা, বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাইরে বের হওয়াসহ নানা কারণে এ মামলা ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ মোট জরিমানা আদায় করেছে ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান জানান,এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা সদরে ২০৬টি নছিমন, করিমন, মোটরভ্যান, ইজিবাইক আটক করা হয়েছে। এই সকল যানবাহন ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৫০টি। জরিমানা আদায় হয়েছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া জেলার আটটি থানায় আরও পাঁচ শতাধিক গাড়ি আটক রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেওয়া লকডাউন স্বাভাবিক হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এসব গাড়ির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি আই ও) মো. ইয়ারুল হক বলেন, গত ৩১ মে প্রতিটি ইউনিয়নে কোভিড পরিস্থিতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের সহায়তার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আড়াই লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৭ জুন আরও এক লাখ টাকা করে ইউনিয়ন প্রতি বরাদ্দ করা হয়েছে। তা ছাড়া জরুরি খাদ্যসহায়তা পেতে সরকারি ৩৩৩-এ কল দিলেও আমরা সহায়তা করছি। এ পর্যন্ত ১৩০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, কিছু টাকা অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিতরণ করা হবে। বিশেষ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর, কর্মহীন মানুষ, তাদের যথাযথ সহায়তাটুকু পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন কোভিড পরিস্থিতিতে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নগদ ও ভিজিএফ ১২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৭০ লাখ টাকা বণ্টন করা হবে। কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের প্রতি সরকার যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281