বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

কুমারখালী হতদরিদ্রের জন্য বিনামূল্যে মিলছে ঈদ বস্ত্র- হাওড় বার্তা

এনামুল হক ইমন,কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ৬২৯ বার পড়া হয়েছে

ঈদে নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য যাদের নেই তাদের জন্য বিনামূল্যে ঈদের পোশাকের ব্যবস্থা করলেন ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ তিয়াস। ঈদে অসহায় ও হতদরিদ্রদের জন্য এ সুযোগে তার এ কর্মকণ্ডে খুশি অসহায় মানুষ। আর বিষয়টি ইতিবাচক মনে করছেন স্থানীয়রা।

আর নতুন পোশাক ছাড়া যেন উৎসব জমেইনা বাঙালীদের। সে উৎসব যদি হয় ঈদ। তাহলে তো নতুন পোশাক ছাড়া ঈদের আনন্দ কল্পনায় করা যায়না।

ঈদকে সামনে রেখে ধনী থেকে গরিব বাঙালির প্রতিটি ঘরেঘরে কেনাকাটার ধুম লেগে যায়। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা স্বাদ ও স্বাধ্যের মধ্যে কিনে প্রতিটি সদস্যের নতুন পোশাক। কিন্তু মহামারী করোনায় ঈদের পোশাক কিনতে ধনীদের তেমন অসুবিধা না হলেও বিপাকে গরিব ও ছিন্নমূল মানুষেরা। করোনায় পর্যাপ্ত কাজ ও অর্থ না থাকায় অনিশ্চিত ঈদের নতুন পোশাক কেনা। তাদের কাছে অনেকটায় অনিশ্চিত ঈদের আনন্দ।

ঈদকে সামনে এমন ভিন্নরকম দোকান খুলেছেন তরুন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী শাকিল আহমেদ তিয়াস। তিনি কুমারখালী ইয়াং কালেকশন, আর এন ফার্নিচার ও রাফা পাঞ্জাবী গার্মেন্টসের স্বত্ত্বাধীকার। এদোকানটি কুমারখালী গণমোড় সংলগ্ন কৃষি ব্যাংকের নিচে মোবারক মার্কেটে অবস্থিত। আর দোকানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ ঈদ আনন্দ, মানুষের প্রতি ভালবাসা’। দোকানে শিশু থেকে সব বয়সী পাঁচশত পুরুষ মানুষের জন্য নতুন জামা, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি সহ ইত্যাদি পোশাক রাখা হয়েছে। এখান থেকে একজন ব্যক্তি পছন্দ মত মাত্র একটি পোশাক টাকা ছাড়াই কিনতে পারবেন। পোশাক গুলো দেওয়া হচ্ছে রাফা পাঞ্জাবী’র সহযোগীতায়।

৭ মে শুক্রবার বিকেলে এদোকানটির শুভ উদ্বোধন করেন তিয়াসের মা সুরাইয়া পারভীন।

জানা যায়, করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেকে, দু-বেলা দুমুঠো ভাতের যোগান দেওয়াটাও তাদের কাছে কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ঈদে নতুন পোশাক কেনাটা দুঃস্বপ্নের মত। কিন্তু নতুন পোশাক ছাড়া ঈদ জমেনা। এমন ধারণা থেকেই ‘ ঈদ আনন্দ, মানুষের প্রতি ভালবাসা’ নামের ভিন্নধর্মী দোকান খুলেছেন তরুন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী শাকিল আহমেদ তিয়াস।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দোকানে আগতদের বিনয়েরসহিত স্বাগতম জানাচ্ছে কিছু স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী। এরপর আগতরা দোকানে থাকা ঈদের পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, গেঞ্জি ইত্যাদি ঘুরেফিরে দেখছেন। পছন্দ হলেই স্বেচ্ছাসেবীরা প্যাকেট করে দিচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তেমন কাজও নেই। তাই ভাল কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন তারা।

ভিন্নরকম এমন দোকানের উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, নতুন পোশাক ছাড়াতো ঈদের আনন্দ হয়না। করোনায় কর্মহীন মানুষের জন্য পোশাক কেনা সম্ভব নয়। এছাড়াও মানুষ তার নিজ পছন্দের পোশাক পড়তে ভালবাসে। তাই ভিন্নরকম এমন আয়োজন। মানুষ দোকানে আসবে, টাকা ছাড়াই এখান থেকে পছন্দের পোশাক কিনে বাড়ি ফিরবে। তিনি আরো বলেন, বিত্তবানদের উচিৎ, ছিন্নমূল মানুষের জন্য কিছু একটা করা।

এবিষয়ে তিয়াসের মা সুরাইয়া পারভীন বলেন, আমার ছেলে সবসময় মানুষের কথা ভাবে।মানুষের জন্য চিন্তা করে। আমার ওর (ছেলের) কার্যক্রম গুলো খুব ভাল লাগে।

এমন ভিন্ন দোকান থেকে টাকা ছাড়াই পোশাক কেনা কয়েকজন নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, করোনায় কাজ নেই। নতুন পোশাক কেনার টাকা নেই। এখান থেকে পছন্দ করে পোশাক নিয়েছি। নতুন পোশাক পেয়ে খুব খুশি খুশি লাগছে।

বিনামূল্যে পছন্দ মতো পোশাক পেয়ে খুশি দরিদ্র ও পথশিশুরা। বিনামূল্যে পোশাক বিতরণের বিষয়টিকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তাদের মতে, এটা দেখার পর সমাজে যাদের সামর্থ্য আছে তারা উৎসাহিত হতে পারে। অনেকে মনে করেন এমন মহৎ কাজে এগিয়ে আসবে সমাজের বিত্তবানরাও। এ উদ্যোগের সঙ্গে যদি সমাজের বিত্তবানরা অংশগ্রহণ করে তাহলে নতুন পোষাকের জন্য কোনো শিশুই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।
২৪ রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত বিনা মূল্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত পত্রিকা ©
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281