বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

কুষ্টিয়া সুগার মিলের এমডি রাকিবুর রহমান সাধু সেজে সন্দেশ খাচ্ছেন,হাওড় বার্তা

হাওড় বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

কে এম শাহীন রেজা কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

কুষ্টিয়া চিনিকলের গুদাম কে এম থেকে প্রায় ৫৩ টন চিনি উধাও হওয়ার ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার (০৭ জুন) সকাল থেকে তদন্ত দল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে রোববার রাতে কুষ্টিয়া চিনিকলে পৌঁছায় তদন্ত দল। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায়কে প্রধান করে গত ৫ জুন গঠিত ৫ সদস্যের এ তদন্ত গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল আলম, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পরিকল্পনা প্রধান আইনুল হক, উপ-মহাব্যবস্থাপক ইলিয়াছ শিকদার ও ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম।

সোমবার সকালে তারা গুদাম ও স্টোরের দায়িত্বে থাকা বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। কুষ্টিয়া সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, চিনি উধাওয়ের ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ জনের বক্তব্য নিয়েছে তদন্তকারী দল। তারা গুদাম ও স্টোরের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না তা জানা যায়নি।

কুষ্টিয়া সুগার মিলের একাধিক সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া সুগার মিল থেকে চিনি উধাওয়ের ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা না। মিলের অসাধু কর্মকর্তারা এসব চিনি বাইরে বিক্রি করে নানা অজুহাত দিয়ে থাকেন। কুষ্টিয়া সুগার মিলের চোরদের একটি সিন্ডিকেট এ ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর দুর্নীতির দায়ে কুষ্টিয়া চিনিকলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ, চিনিকলের সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানকে একযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই সময় এমডি রাকিবুর রহমান জিএম পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি সবই জানতেন এবং ভাগও পেতেন।

গোলাম মোর্শেদ কে বরখাস্ত করে বদলি করার পর যোগদান কবেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার সময় অবশ্যই চিনির হিসেব বুঝে নিয়েছিলেন তবে এখন কেন ৫৩ টন চিনি ঘাটতি দেখা দিল এটা নিয়ে চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সুগার মিলের আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, বর্তমান এমডির অনুমতি ছাড়া কোন চিনি বাইরে যেতে পারে না, তিনি থাকা অবস্থায় ৫৩ টন চিনি গায়েব হওয়ার পেছনে এমডি রাকিবুল রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। এ ছাড়াও রাকিবুর রহমান চিনিকলের মধ্যে তার রাজকীয় বাসস্থান থাকা সত্বেও তিনি কুষ্টিয়া শহরের ৬ রাস্তার মোড়ে ফয়সাল টাওয়ারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন, আর এই বাসস্থানকে অকেজো দেখিয়ে বাসা ভাড়া উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

চিনিকলের মধ্যে অবস্থিত আলিশান বাড়ি থাকা সত্বেও বাসা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে রবিবার সকালে সরাসরি এমডি রাকিবুর রহমানের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোন প্রকার সদুত্তর দিতে পারেন নাই। এছাড়াও তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলো যে আপনি, আপনার ক্যাশিয়ার, স্টোর কিপার ও সিকিউরিটি ইনচার্জ সরাসরি এই পুকুর চুরির মত চিনি আত্মসাতের পেছনে আপনাদের হাত রয়েছে। এই প্রশ্নর উত্তর না দিয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে উঠে-পড়ে বলেন, ডিসি সাহেব আমাকে ফোন করেছিল এই মুহূর্তে আমাকে সেখানে যেতে হবে বলে উঠে চলে গেলেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান শিবনাথ রায় বলেছেন, জুডিশিয়ালি তদন্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। নথি দেখা হচ্ছে, গোডাউন পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাঠের কাজ শেষে এখান থেকে প্রতিবেদনের সারবস্তু মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। তদন্তে যদি চিনি নিয়ে অসংগতির সত্যতা পাওয়া যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতি সকলের অনুরোধ বর্তমান এমডি হাবিবুর রহমানের হস্তক্ষেপে উক্ত ঘটনাটি ঘটেছে। চিনি চুরির ঘটনায় তার সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এটাও বলেন বর্তমান এমডি ধোয়া তুলসী পাতা নয় তার সরাসরি হস্তক্ষেপে কুষ্টিয়া চিনিকলে সবকিছু চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাকিবুর রহমান খান নিজের দোষ ঢাকতে প্রতিবেদককে বলেন, স্টোরে চিনির হিসাব করার জন্য প্রথমে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১২১ টন চিনি থাকার কথা থাকলেও প্রায় ৫৩ টন ঘাটতি দেখা যায়। কমিটি ৩ জুন প্রতিবেদন জমা দিলে দেখা যায় ৫৩ টন চিনির ঘাটতি আছে। এতে স্টোরকিপার ফরিদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চিনি উধাও হওয়ার ঘটনায় শনিবার (৫ জুন) রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১৯ বছরে কুষ্টিয়া চিনিকলে লোকসান হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ফলে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দৌরাত্ম্য, চরম দুর্নীতি, ব্যবস্থাপনায় ক্রুটি ও ক্রমাগত লোকসানে ২০২০-২১ অর্থবছরে মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত মৌসুমে ২ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসকল শ্রমিক-কর্মচারীরা দায়ী করছেন কুষ্টিয়া চিনিকলের এমডি থেকে শুরু করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে। তারা এটাও বলছেন বর্তমান এমডি নিজের কুকীর্তি ঢাকতে উদোর বুঝা বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281