সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

মাল্টা চাষের সফলতা দেখে বিদেশ থেকে ফেরত আব্দুল আলীম 

মোঃ লিটন হুসাইন
  • আপডেট সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৪৬ বার পড়া হয়েছে

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

তালায় প্রবাসী ফেরৎ যুবক বেছে নিয়েছে বেদানা ও মাল্টার চাষ। একি সাথে বেদানা ও মাল্টা চাষে সফলতা দেখছেন মোঃ আব্দুল আলীম মোড়ল।

উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভের পরিমাণ বৃদ্ধির কারনে কৃষি নির্ভর সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় বেলে দোআঁশ মাটিতে সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মাল্টার চাষ। সকলের মধ্যে একটু আলাদা ভাবে এই যুবক একি সাথে চাষ করেছেন মাল্টা ও বেদানার। গাছের ফল দেখে বেশ খুশী এই যুবক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে এবছর এই উপজেলায় ৫হেক্টর জমিতে মাল্টার চাষ হয়েছে। আগোলঝাড়া গ্রামের মাল্টা ও বেদানার ফলের বাগান প্রদর্শনী প্লট।তালা উপজেলা য় বারী মাল্টা-১মিষ্টি (পয়সা মাল্টা)রং চাষ হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে মোঃ আব্দুল আলীম মোড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বেতনও পেতেন ভালো। তাই যখন চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে এসে মাল্টার বাগান করার পরিকল্পনা করেন, তখন বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের দৃঢ় মনোবলে বেশী উৎসাহী হয়ে পাশাপাশি মাল্টার পাশাপাশি বেদানার চাষের প্রতি মনোযোগী হয়ে শুরু করেন নিজ গ্রামে এই ফলের বাগান।

২০১৯ সালে বাবার দেওয়া ৩৫ শতক জমিতে ১৭০ টি মাল্টা ও ১৭০ টি বেদানার গাছ দিয়ে শুরু এই ফলের বাগান। মাত্র তিন বছরেই তিনি আজ সফল মাল্টা চাষি। গত বছরে তাঁর বাগানে সামান্য পরিমাণ মাল্টা ফল হয়েছিল।এ বছর অনেক ফল হয়েছে। গত বছর প্রায় বিশ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হয়। এই বাগানে হওয়া বে দানা গাছে এখনো ফল ধরেনি তবে এবার ফল ধরবে বলে আশাবাদী তিনি।

মোঃ আব্দুল আলীম মোড়ল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার আগোলঝাড়ার গ্রামের মৃত নূর আলী মোড়লের পুত্র তিনি বিদেশে থাকা কালীন ও দেশে এসে টেলিভিশনে মাল্টা চাষের ওপর একটি প্রতিবেদন দেখে তিনি এই ফল চাষে আগ্রহী হন । ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে মাল্টার বাগান শুরু করেন। প্রাথমিক ভাবেই ৩৫ শতাংশ জমিতে তাঁর বাগান রয়েছে। সেখানে আছে প্রায় দেড় শতাধিক মাল্টা গাছ সহ দেয় শতাধিক বে দানা ফলের গাছ।

প্রবাসী ফেরৎ যুবক মোঃ আব্দুল আলীম মোড়ল দৈনিক সবুজ নিশান কে বলেন, বাগানে মাল্টার পাশাপাশি বেদানার গাছ আছে এবং তার পাশে বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ রোপন করেছেন। আরও আছে নারকেল, আমড়া,ও লিচু গাছ । তবে মাল্টা ও বেদনা চাষের ওপর তিনি বিশেষ নজর রাখেন। তাঁর বাগানে থাইল্যান্ডের বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা জাতের গাছ আছে। চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয়। কিন্তু তিন বছর পর একটি গাছে পূর্ণাঙ্গভাবে ফল ধরা শুরু করেছেন বলে তিনি জানান। তিন বছর পরে গাছপ্রতি মৌসুমে ১০ থেকে ২০ টি এমন কি কোন গাছে ৩০-৫০ টি মাল্টা ধরেছে। বর্তমানে তাঁর বাগান পরিচর্যার জন্য এক লোক সারাক্ষণ কাজ করেন এবং তিনি যে নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করেন। তাঁর দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক স্বল্প পরিসরে মাল্টাবাগান করেছেন বলে জানা গেছে।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন হাওড় বার্তা কে বলেন। মাল্টা চাষে অনেক লাভজনক ফল আমাদের পক্ষ থেকে,মাল্টা চাষি দের এন এ টি পি-২ প্রকল্প,জি কে ডি এস পি প্রকল্প, আওতায় প্রদর্শনী দেওয়া হয়। এবং পুষ্টি বাগানের প্রকল্পের প্রদর্শনী দেওয়া হচ্ছে। সকল মাল্টা চাষী দের সঙ্গে কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখেন বলে জানান। এছাড়া সকলকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রদান করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সব ধরনের সংবাদ পেতে ক্লিক করুন।
দৈনিক হাওড় বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281