রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নাটাই ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা প্রদানবিশ্বনাথে নারী নির্যাতন মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন৯ লাখ টাকার ইয়াবাসহ, ২যুবক গ্রেফতারকুমারখালীতে উপজেলা বিএনপির ‘অবৈধ’ আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলননাসিরনগরে বাংলাদেশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি’র জন্মদিন পালিতখুলনা রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি গঠনপঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোর সদর ও কেশবপুরে নৌকার মাঝি হলেন যারাশান্তিগঞ্জ উপজেলার সরদপুর ব্রীজের পশ্চিম পাড় ধসে হুমকির মুখে পড়েছে স্বাভাবিক যান চলাচল।শহীদ জসিম উদ্দিন স্মৃতিসংসদ’ এর উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও শোকসভাকুষ্টিয়া জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের বিজয় মিউজিক অন দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আনোয়ারায় জন্ম নিবন্ধন করতে নজিরবিহীন ভোগান্তি

আমজাদ হোসাইন
  • আপডেট মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

আনোয়ারা(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

পাসপোর্ট, বিবাহ নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সব বয়সের জন্ম সনদ প্রয়োজন। তবে নতুন করে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে অনেককেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সনদ পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা, যেন জন্ম নিবন্ধনের আরেক নাম ভোগান্তি।আনোয়ারা উপজেলায় ৯নং পরৈকোড়া ইউনিয়নে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঝামেলার কারণে অনেকেই জন্ম সনদ নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না।

২৪শে অক্টোবর রবিবার উপজেলার ৯নং পরৈকোড়া ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক নারী-পুরুষ ঘন্টার পর ঘন্টা রৌদে দাড়িয়ে জন্মনিবন্ধন অনলাইন করার জন্য অপেক্ষা করছে।সেবাকারীর পরিচিত ছাড়া মিলছে না জন্মনিবন্ধন সনদ।

বর্তমানে আলোচিত হয়ে উঠছে এই জন্ম নিবন্ধন সনদ নিয়ে ভোগান্তির কথা। বৈশ্বিক করোনা মহামারীর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজগুলো বন্ধ। কিন্তু এই স্কুল-কলেজ বন্ধের মাঝে ও সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য একটি ফর্ম দেওয়া হয়েছে।

তবে এই ইউনিক আইডি সমস্যার নয়, সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে যখন তথ্য পূরণ করা হচ্ছে। যখন চাওয়া হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন সনদ। আবার সেই জন্ম নিবন্ধন সনদ হতে হবে অনলাইন নিবন্ধনকৃত জন্ম নিবন্ধনের কপি। যদিও এখন ইউনিক আইডি ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। তবে একজন শিক্ষার্থীর বয়স যতদিন না আঠারো হচ্ছে, যতদিন তারা জাতীয় পরিচয়পত্র না পাচ্ছে ততদিন অন্তত এই জন্ম নিবন্ধন সনদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। জন্ম নিবন্ধন সনদ অনেক কাজে লাগে আর এই জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া এখন ভীষণ বিড়ম্বনার বিষয় হয়ে পড়েছে। জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া বিড়ম্বনার এর উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি।

বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে তার সঙ্গে তাদের পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন করতে হয়। ফলে দেখা যাচ্ছে এক সঙ্গে তিনজনের জন্ম নিবন্ধন করতে হয়। আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, যখন তিনটি জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করা হয় তখন সেই ব্যয় বহন করাও কষ্টসাধ্য। কারণ তখন সেই জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এক সঙ্গে একজন নয়, দুজন নয়, তিনজনের জন্ম নিবন্ধনের খরচ বহন করতে হচ্ছে। যা অভাবি মানুষগুলোর কাছে যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

তাছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষগুলোর কাছে বিষয়টি ভীষণ সমস্যার সৃষ্টি করছে। অনেকে বুঝতে পারছে না কোথায় গিয়ে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। একেকজনের কাছে পরামর্শ চাচ্ছে। অন্যদিকে যখন জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে অভিভাবকরা ভিড় করছে। আর ইউনিয়ন পরিষদের কর্তৃপক্ষ ও হিমশিম খাচ্ছে একসঙ্গে এত লোকের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম রক্ষা করতে। এছাড়া এই জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে হয়রানি হচ্ছে অনেকে। কয়দিন এই কাজে ঘুরেও কেউ কেউ সমাধান পাচ্ছেন না। একজন দিনমজুরের কথাই ধরি।

কাজ করলে দিনে অন্তত তিন শত টাকা উপার্জন করতে পারত কিন্তু এই জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য জন্য চার পাঁচদিন সময় ব্যয় হয় তাহলে কতটা ক্ষতি হচ্ছে তাদের। দিন আনে দিন খায় তারা কয়েকদিন এই সনদের জন্য কাজে না গেলে উপার্জন না করলে তাদের ভোগান্তি কতটা ভয়াবহ হচ্ছে উপলব্ধি করার বিষয়। শুধু তাই নয়, এই জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি প্রভাব ফেলছে অভিভাবক ও কোমলমতি শিশুদের উপর। অভিভাবকের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চাপে ভুগছে একজন শিশু।

মানসিক চাপ একটি শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সহজ পদ্ধতি চাই। আমরা চাই, জন্ম নিবন্ধন সনদ উত্তোলন প্রক্রিয়া সহজ করা হোক। অভিভাবকদের উপর মানসিক চাপ ও ভোগান্তি কমাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সেবাকারী মোহাম্মদ আকবর হোসেন সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে মোবাইল ফোন বন্ধ বলা হয়।

৯নং পরৈকোড়া ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ আশরাফ সাথে মোঠোফোন যোগাযোগ করতে চাইলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন বলা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহমেদ জন্মনিবন্ধন নিতে পরৈকোড়া ইউনিয়নবাসী ভোগান্তি সত্যতা যাচাই করে বলেন-জন্মনিবন্ধন অনেক আটকে ছিলো প্রিন্টিংয়ে, আমি বলে দিয়েছি অতি দ্রুত প্রিন্টিং করে দেওয়ার জন্য।চেয়ারম্যান অসুস্থ, আমরা বিষয়টা গুরুত্বসহকারে দেখছি কি করা যায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281