

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক জিএম হায়দারকে বহিস্কারের দাবি তুলেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের সাথে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা, বিকৃত বাচনভঙ্গিতে কুরুচিপূর্ণ উদাহরণ দেওয়া, কখনও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আবার কখনও বিশেষ কোনো ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন বাক্য প্রয়োগ করা এবং সম্প্রতি তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সাবেক শিক্ষার্থীরা এ দাবি তুলেছেন। ২০/২১ বছর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
১৮ মার্চ জিএম হায়দারের একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হলে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করেন এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। পরে ওইদিন বিকেলেই ওই শিক্ষককে শোকজ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সাবেক শিক্ষাথী, সুশীল সমাজের ব্যক্তিসহ অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিবুর হাসান মিশুক বলেন, ‘ওই শিক্ষকের কাছে কোনো শিক্ষার্থী নিরাপদ নয়। তাই তাঁকে দ্রুত স্কুল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। নইলে আমরা সাবেক ছাত্র হিসেবে ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ইসতিয়াক হোসেন সাজ্জাদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ওই শিক্ষক ২০০৩/০৪ সালেই তিনি বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এবার তবে দেরি করে তার চেহারা প্রকাশ পেল। এরপরেও যদি তাঁকে বর্তমান নাগরিক সমাজ আবার বিদ্যালয়ে জায়গা করে দেয় তবে সেটা হবে এমন অপরাধকে বৈধতার সার্টিফিকেট দেওয়া।’
সাবেক শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ ফেসবুকে লিখেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা ২০০২ সালে আন্দলোন করেছিলাম তখন যদি পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে এখন আর এগুলো দেখতে হতো না।’
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কুতুব উদ্দিন জানিয়েছেন, একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় ওই শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে একটি শোকজ চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক জিএম হায়দার বলেন, ‘শোকজের চিঠি পেয়েছি। হয়তোবা ভিডিওটি এডিট করা। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি আমি না।’



সম্পাদক ও প্রকাশক: কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক: আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
বিজ্ঞাপন: 01647-834303 বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়:- জয়নগর বাজার,সুনামগঞ্জ,সিলেট। ই-মেইল:- Haworbartaofficials@gmail.com

