

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি পরিবারের বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, ধান-চাল, গবাদিপশু, নগদ টাকাসহ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলো। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দিরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগে গ্রামবাসী নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে ১৪টি পরিবারের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বর্তমানে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সোমবার রাতে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রতিনিধি ও দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুড়ে যাওয়া বসতঘরগুলো ঘুরে দেখেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সোহেল তালুকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি সজীব রশিদ চৌধুরী, দিরাই উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাবেক সদস্যসচিব বিষ্ণুপদ সরকার, সদস্য কবিন্দ্র দেবনাথ, বিকাশ দাস ও দীজেন্দ্র সরকার প্রমুখ।
এ সময় অশোক তালুকদার বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এবং জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ধারণা, আগুনে ১৪টি পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা হতে পারে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, সোমবার অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিসহ তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫০০ কেজি করে চাল, শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ১৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক : আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এডভোকেট সুজন দেওয়ান
নিউজ রুম ও বিজ্ঞাপন: 01647-834303 বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়:- শান্তিগঞ্জ বাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট। ই-মেইল:- Haworbartaofficials@gmail.com

