1. admin@haworbarta.com : admin :
তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় স্বাধীন সূত্রধরের সংসার - Haworbarta
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
➤ তাহিরপুরে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ➤ জগন্নাথপুরে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের দায়িত্বে রুবেল- শামীম  ➤ তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় স্বাধীন সূত্রধরের সংসার ➤ জয়নগর বাজারে আগুন, ভাঙা সড়কে দেরিতে পৌঁছাল ফায়ার সার্ভিস ➤ শিল্পপতি প্রদ্যুৎ তালুকদারকে সংবর্ধনা দিলেন সুনামগঞ্জ পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ➤ সুনামগঞ্জের জয়নগর বাজারে দোকানে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ➤ জাউয়াবাজারে ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ➤ জাউয়াবাজারে ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ➤ ছাতকে জহিরুল ইসলামের প্রার্থিতা ঘোষণায় চরমহল্লায় জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ ➤ সুনামগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো ছয়দিনব্যাপী দুর্গাপূজা

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় স্বাধীন সূত্রধরের সংসার

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের স্বাধীন সূত্রধরের সংসারে নিত্যদিনের সঙ্গী অভাব আর দুশ্চিন্তা। তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবার। অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন তিনি। সেই সামান্য আয়ে সংসারের খরচ, সন্তানদের পরিচর্যা ও চিকিৎসার প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে দুই সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সৃষ্টি সূত্রধর এখনো ভাতা পাচ্ছে না। তবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।

স্বাধীন সূত্রধরের তিন সন্তান সনজীব সূত্রধর (১৮), সৃষ্টি সূত্রধর (১৫) ও সমাপ্ত সূত্রধর (১২)। তিনজনই প্রতিবন্ধী। সন্তানদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করতে হয় মা শ্রীমতী সূত্রধরকে। ফলে তাঁর পক্ষে বাইরে গিয়ে কাজ করে সংসারে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বাধীন সূত্রধর। তাঁর সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি তিন সন্তানের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বাধীন সূত্রধর বলেন, ‘মানুষের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। সেই টাকায় টেনেটুনে সংসার চালাতে হয়। বড় ছেলে সুস্থ থাকলে এই বয়সে সংসারের হাল ধরতে পারত। কিন্তু তিন সন্তানের দেখাশোনার কারণে আমার স্ত্রী বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়, কিন্তু মেজো মেয়ে সৃষ্টি এখনো ভাতা পায়নি। গত এক বছর ধরে শাল্লা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভাতার জন্য আবেদন করছি। কেন ভাতা হয়নি, তা জানি না। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে পরিবার নিয়ে খেয়েপরে বাঁচতে পারব।’

সন্তানদের পরিচর্যায় দিন কাটে মা শ্রীমতী সূত্রধরের। তিনি বলেন, ‘সারাদিন সন্তানদের দেখাশোনা করেই সময় চলে যায়। তাদের রেখে বাইরে গিয়ে সংসারের জন্য কাজ করতে পারি না। সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া, তিন সন্তানের চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।’

পরিবারটির প্রতিবেশী রঞ্জন সূত্রধর জানান, স্বাধীন সারাদিন অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী তিন সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। পরিবারটির চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য সুনীল চন্দ্র দাস বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পরিবারের দুই সন্তানকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সহযোগিতা করেছেন। সৃষ্টির জন্যও আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনো ভাতা চালু হয়নি। পরিবারটি যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়, সে জন্য তিনি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।

শাল্লা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী বলেন, পরিবারটির বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। দুই সন্তানের প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হয়েছে। সৃষ্টির বিকাশ পেমেন্ট নম্বর দেওয়া হলে ডিসেম্বরের মধ্যে তার ভাতা চালুর ব্যবস্থা হবে। চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়। পরিবারটিকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহায়তার সুযোগ সীমিত। তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ভাতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপরও পরিবারটির জন্য কিছু করা যায় কি না, তা দেখবেন বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ বলেন, পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বিকাশ পেমেন্ট নম্বর দিলে দ্রুত সৃষ্টির ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত পরিবারটিকে তিনটি হুইলচেয়ার দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহযোগিতার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

প্রতিদিনের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা, পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা স্বাধীন সূত্রধরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে পরিবারটির চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। এখন পরিবারটির প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুত সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি সন্তানদের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের সংবাদ
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত (মফস্বল-২১৬) কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-8a95b7aab382120484ca