শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই, চার সন্তানের মুখে বাঁচার স্বপ্ন

হাওড় বার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান : “যুগে নয়, বুড়া হয়েছি রোগে”—কথাটি বলতে বলতেই গলার ফুলে ওঠা অংশে হাত রাখেন সুজিনা বেগম। বয়স মাত্র ৩৭ বছরের কাছাকাছি। অথচ দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের নির্মম আঘাতে তার শরীর যেন সময়ের আগেই নুয়ে পড়েছে। মুখজুড়ে ক্লান্তি, চোখে অনিশ্চয়তার ছাপ, আর বুকভরা একটাই আকুতি—বেঁচে থাকতে চান, শুধু চারটি সন্তানের জন্য।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা সুজিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। রোগের কারণে তার গলার দুই পাশে বড় ধরনের ফোলা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারেন না, কথা বলতেও কষ্ট হয়। অধিকাংশ সময় কাটে শয্যায়।

তার স্বামী আমিনুল হক একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ মিললে সংসারে চুলা জ্বলে, না মিললে অনিশ্চয়তা। সেই সীমিত আয়ের বড় অংশই চলে গেছে স্ত্রীর চিকিৎসায়। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়-সম্বল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার এক টুকরো বসতভিটাই তাদের শেষ অবলম্বন।

এই পরিবারের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা চারটি শিশু সন্তান। বড় ছেলে সাইম আহমদ (১৪) বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার বয়সে সিলেটের একটি কারখানায় মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনে কাজ করছে। পরিবারের দাবি, সেই সামান্য আয়ের একটি অংশ মায়ের চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়। মেয়ে ওয়াকিয়া বেগম (১১) স্থানীয় বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অসুস্থ মায়ের সেবাযত্ন ও সংসারের নানা কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্য দুই সন্তান সিয়াম আহমদ (৮) ও দুই বছর বয়সী মুনতাহা জান্নাত এখনও মায়ের স্নেহ-ছায়ায় বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

পরিবার জানায়, কিছুদিন কেমোথেরাপি চললেও বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ। প্রতিটি থেরাপির জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা দিনমজুর পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সুজিনা বেগম বলেন, “আমি মরতে চাই না। আমার ছোট ছোট সন্তানগুলোর জন্য বাঁচতে চাই। মানুষের সহযোগিতা পেলে হয়তো চিকিৎসাটা আবার শুরু করতে পারব।”

স্ত্রীর পাশে বসে আমিনুল হক বলেন, “আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে হয়তো আমার স্ত্রীকে বাঁচানোর একটা সুযোগ তৈরি হবে।”

চিকিৎসা সহায়তার জন্য পরিবারটির পক্ষ থেকে একটি বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছে। সহায়তা করতে বা যোগাযোগ করতে আগ্রহীরা ০১৭৩৮-৯২৪০০৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে চোখ রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের সংবাদ
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত (মফস্বল-২১৬) কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281