

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রাজেন্দ্রপুর/পাড়াপুঞ্জি মৌজাস্থিত চেলা নদীর ডালা (গেদুর ডালা) এলাকা থেকে সরকারি খাস ফসলি জমি ও নদীর তীর কেটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও নুড়িপাথর উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে কয়েকটি গ্রামের বসতভিটা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও কবরস্থান ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার চার গ্রামের শত শত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পূর্ব সোনাপুর হুসাইনিয়া দারুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এতে নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
পূর্ব সোনাপুর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি হাজী সুলতান মিয়ার সভাপতিত্বে এবং রুবেল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ধন মিয়া, হাজী সুলতান আলী, ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নওশাদ জামিল, আব্দুল খালিক মানিক, নিজাম উদ্দিন, মিজান মিয়া, নুর মিয়া নরু, মাহবুল হক শামীম, বিএনপি নেতা মকবুল হোসেন, মোবারক সায়েম, সিরাজুল ইসলাম, হান্নান, সাক্কুল আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম সেনু, আব্দুল হাই, হাদিল মিয়া, আমির উদ্দিন, মেরাজুল হক, আনু মিয়া, শিপন আহমেদ, আজিজুর রহমান, কাদির, সালমানসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ইজারা বহির্ভূত পাড়াপুঞ্জি মৌজার চেলা নদীর ডালার মুখে কলাবাগান এলাকা থেকে রাতের আঁধারে প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি লিস্টার মেশিন বসিয়ে এবং দিনে ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী চক্র কোটি কোটি টাকার বালু ও নুড়িপাথর উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অব্যাহতভাবে নদীর পাড় কাটার ফলে পুরো এলাকা ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, একসময় তাদের পারিবারিক কবরস্থানের সঙ্গে নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় এক কিলোমিটার। কিন্তু বছরের পর বছর অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সেই দূরত্ব কমে বর্তমানে প্রায় ৫০ মিটারে নেমে এসেছে। কবরস্থানের পাশেই প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জামে মসজিদ ও মাদরাসা রয়েছে। একইভাবে রাতের অন্ধকারে ড্রেজার ও লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে অচিরেই কবরস্থান, মসজিদ ও মাদরাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে শুধু একটি বা দুটি স্থাপনা নয়, পুরো জনপদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাপুর কওমি মাদরাসা, স্থানীয় জামে মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, শারফিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিরগাঁও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাবিবনগর জামে মসজিদ, হাবিবনগর হাফিজিয়া মাদরাসা, টুকেরগাঁও জামে মসজিদ, রহমতপুর বাজার লতিফিয়া দাখিল মাদরাসাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এছাড়া ৮ থেকে ৯টি গ্রামের শত শত পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা। তারা বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বালুখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাও চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
বক্তারা অবিলম্বে চেলা নদীর গেদুর ডালা এলাকায় সকল ধরনের অবৈধ বালু ও নুড়িপাথর উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ ড্রেজার ও লিস্টার মেশিন জব্দ, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নদীতীর সংরক্ষণে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং প্রয়োজনে রাজপথে নেমে নিজেদের বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানববন্ধনে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর, পূর্ব সোনাপুর, চাইরগাঁও, হাবিবনগর ও শারফিননগর গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচির শেষে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।


সম্পাদক ও প্রকাশক : কাউছার উদ্দিন সুমন
নির্বাহী সম্পাদক : আনিছুর রহমান পলাশ
বার্তা সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম রেদুয়ান
নিউজ রুম ও বিজ্ঞাপন: 01647-834303 বার্তা বাণিজ্যিক কার্যলয়:- শান্তিগঞ্জ বাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট। ই-মেইল:- Haworbartaofficials@gmail.com

